রোমান্টিক গল্প

ইসলামিক ছোট গল্প – গান শোনার কুফল

/

by Shah suhail

/

No Comments

ইসলামিক ছোট গল্প – গান শোনার কুফল

আরবের এক ইমাম সাহেবের ভাষ্যে –

একদিন আমি ফজরের নামজ আদায় করে মুসল্লিদের নিয়ে মসজিদে বসে আছি। তখন একটি ছেলে আমার কাছে আসলো।

বয়স আনুমানিক তেরো হবে। তার চোখেমুখে পেরেশানির ছাপ। আমাকে বলল- আমার আব্বা তাৎক্ষণিক আপনাকে তলব করেছেন।

এক্ষুণি আমার সাথে আপনাকে বাসায় নিয়ে যেতে বলেছেন। আমি ছেলেটির সাথে হাঁটা ধরলাম। মসজিদের পাশেই তার বাড়ি।

খুব তড়িত তার বাড়িতে গিয়ে পৌঁছুলাম। বারান্দায় ঢুকেই দেখলাম ৫০ বছরের এক প্রৌঢ় দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ।

তার চেহারাজুড়ে বিষাদের ছাপ। গাল বেয়ে টলমলে অশ্রুফুটা গড়িয়ে পড়ছে।

ইসলামিক ছোট গল্প

আমাকে দেখেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন –

ইমাম সাহেব হুজুর, আমার মেয়ে মৃত্যুপথের যাত্রি। আপনি তাকে একটু শাহাদাতের তালক্বীন দেন দয়া করে।

আমি একরাশ চিন্তা নিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। মেঝের সাঝে একজন তরুণী শায়িত। বয়স আটারো থেকে বিশ হবে।

একটি আবরণ দিয়ে শরীর ঢাকা। আমি তার বুক বরাবর গিয়ে বসলাম। তাকে উদ্দেশ্য করে বললাম- মা! আমার সাথে বলো “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”।

আমি যখন বারবার বাক্যগুলো বলছিলাম তখন মেয়েটির মুখ থেকে বারবার উচ্চারিত হলো আমার বুক ফেটে যাচ্ছে, আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।

আমি তাকে বুঝালাম। আবার তাহলীল পাঠ করতে বললাম। তখন মেয়েটির কথা শুনে আমি খুব অবাক হলাম।

সে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগল- আমি দেখতে পাচ্ছি প্রচন্ড আগুনের পাশে আমি দাঁড়িয়ে আছি। আগুনের উত্তাপ এসে আমার বুকে লাগছে।

আর বিশাল বিশাল সাপেরা আমার কানে এসে দংশন করছে।

কথাগুলো বলতে বলতে মেয়েটির নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসল। মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ল সে।

বিষ্ময়কর এই কাণ্ড দেখে আমি তার পিতার কাছে কারণ জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তার পিতা বললেন- মেয়েটি সারাদিন গান শুনত।

আযানের সময়ও তার কানে হেডফোন ঢুকানো থাকত। কখনো নামাজের ধারেকাছেও যায় নি। কোরআন কী জিনিস তাও সে বলতে পারবে না।

অনেক বুঝিয়েছি আমি। কিন্তু আমার কোন কথায়ই আমলে নেয় নি।

ঘটনা শুনে ইমাম সাহেব বললেন- এজন্যই তো, আমি যখন তাকে তালক্বীন করাতে চাইলাম সে তা উচ্চারণ না করে বারবার বলছিল, বুক ফেটে যাচ্ছে, বুক ফেটে যাচ্ছে।

গল্প থেকে শিক্ষা

প্রিয় বোনেরা, ভাইয়েরা –

আমরা আজ কোন জগতে বাস করছি, একটুও কি চিন্তা করেছি কখনো? মনে রাখবেন! এই পৃথিবী ক্ষণিকের ঠিকানা।

চিরস্থায়ী ঠিকানা তো আপনারই অপেক্ষায়। আর কত? কত আর এভাবে আযান শুনেও গানের তালে তালে দুলবেন?

আর কত ভাগ্যনিয়ন্তার বিরোদ্ধে দুঃসাহস প্রদর্শন করবে? গান শুনার কুফল কী হতে পারে তা তো দেখলেন ই।

মনে রাখবেন, রাসুল সা. এক হাদীসে উল্লেখ করেছেন- ” যারা গান বাজনা শুনে, কেয়ামতের দিন তাদের কানে উত্তপ্ত গলিত শিশা ঢালা হবে।”

তাই আজই ভাবুন! ফিরে আসুন রবের পথে। ছেড়ে দিন গান বাজনার মত সব অশ্লীলতা।

(আর হ্যাঁ, আরেকটি কথা না বললেই নয়। আমরা অনেক সময় মৃতপ্রায় ব্যক্তিকে শাহাদাতের তালক্বীন দিতে গিয়ে তাকে পড়ার জন্য বলি।

এটা আদৌ ঠিক নয়। কারণ সে তখন জীবনের সবচে কঠিন কষ্টের মাঝে। তখন যদি সে রাগ করে কুফরি কালাম পাট করে ফেলে,

কিংবা রবকে অস্বীকারমূলক কোন বাক্য বলে ফেলে তার জন্য আমরাই দায়ি হব। এজন্য তাকে উচ্চারণ করার জন্য না বলে,

নিজেরা জোরে জোরে উচ্চারণ করব। তার যদি ভাগ্য ভালো থাকে তাহলে শোনার সাথে সাথে এমনিতেই তার মুখ থেকেও উচ্চারিত হবে৷)

আরো পড়ুন –

ইসলামিক ছোট গল্প – রাতের অন্ধকারে উমর ইবনে আব্দুল আযিয

মুসলিম জাহানের খলীফা উমর ইবনে আব্দুল আযীয। ন্যায়পরায়ণতায় যিনি আজও দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন সমাজের কাছে।

দুনিয়াবিমুখ এক খোদাভীরু ব্যক্তি। পৃথিবীর শাসক হওয়া সত্বেও যার মনে নেই সরষে পরিমাণ অহংকার কিংবা আত্মগরিমা।

আছে শুধু মানবতার প্রতি দরদ আর মমতা। ধ্বনী-গরীব সকলের তরে তিনি বাদশাহ। তার ইনসাফ আর ন্যায়বিচারের কাহিনী স্মরণীয় হয়ে থাকবে যুগেযুগে, কালান্তরে।

তার ইনসাফ আর ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা হয়ে থাকে, তখনকার সময় তার নেতৃত্বাধীন রাজ্যে বাঘে-সিংহে একই ঘাটে পানি পান করত।

কোন নিন্দুকের কথা তাকে আঘাত করতে পারে নি কখনও। কষ্ট দিতে পারেনি কারও রূঢ় কদাকার ভাষাও।

এরকম একটি ছোট্ট গল্প-ই আজ আমরা শুনব-

গভীর আন্ধকার রজনী। তমশায় আচ্ছাদিত পৃথিবী। চারিদিকে পিনপতন নিরবতা। নেই কোন কোলাহল বা মানুষের মুখরতা।

ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেছে সবাই। কিন্তু মুসলিম জাহানের খলীফা উমর ইবনে আব্দুল আযীয এখনও হাঁটছেন রাস্তায় রাস্তায়।

মানবতার খোঁজ নিতে সহচরকে নিয়ে মাড়িয়ে চলছেন রাস্তা থেকে রাস্তা। শহর থেকে উপশহর।

রাতের শেষ। অন্ধাকার চারিদিকে তার নিকষ কালো চাদর বিছিয়ে দিছে। শেষরাতে রবের ডাকে সাঁড়া দিতে উমর ইবনে আব্দুল আযীয ঢুকে গেলেন একটি মসজিদে।

গভীর অন্ধকার। কিছুই চোখে ভাসছে না। নিজের অজান্তে অনিচ্ছাবশত কারও গায়ে পা লেগে গেলো তার।

পায়ের ছোয়া পেয়ে লোকটি হুড়মোড় করে জেগে ওঠল। উমর ইবনে আব্দুল আযীয কে দেখে নি সে। রাগত স্বরে বলে ওঠল- এটা কী করলেন? আপনি কি গাধা?

উমর ইবনে আব্দুল আযীয ঈষৎ হাসি দিয়ে বললেন- আমি গাধা বা ঘোড়া কিছুই নই। আমি আল্লাহর বান্দা উমর।

লোকটির এমন বেয়াদবিমূলক কথা আর উমরের এমন হাস্যরসিক জবাব তার সহচরকে অবাক করল। সহচর বলে উঠলেন-

খলীফাতুল মুসলিমীন –

লোকটি তো আপনাকে গাধা বলে গালি দিল?

সহচরের কথা শোনে হাসিমাখা উত্তর দিলেন উমর ইবনে আব্দুল আযীয। বললেন- সে তো আমাকে গালি দেয় নি!

বরং আমাকে প্রশ্ন করেছে যে, আমি কি গাধা? তাই আমি উত্তর দিলাম, আমি গাধা নই, আমি উমর।

গল্প থেকে শিক্ষা

ইসলামিক ছোট গল্প – আজকের গল্প থেকে শিক্ষার বিষয়টা আপনাদের সুন্দর ভাবনার উপর ছেড়ে দিলাম পাঠকমহল। পাঁচটি মিনিট হলেও গল্পটার গভীরে গিয়ে একটুখানি ভাবেন।

তবে হ্যাঁ! নিন্দুকের নিন্দার কোন পরোয়া করবেন না কখনও। তাকে যদি সময় দিতে যান তাহলে অনেক পিছনে পড়ে যাবেন।

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment