জীবন গল্প, রোমান্টিক গল্প, শিক্ষনীয় গল্প

ইসলামিক শিক্ষনীয় গল্প

/

by Shah suhail

/

No Comments

ইসলামিক শিক্ষনীয় গল্প – অনুপম ক্ষামার দৃষ্টান্ত

মক্কা বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – একদিন কাবাঘর তওয়াফ করছিলেন। তখন মক্কায় ফোযালাহ বিন ওমায়ের নামক এক ব্যক্তি ছিল।

সে শুধু বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। সে মহানবী -কে দেখে এগিয়ে এলাে । এরপর সে মহানবী -এর পিছু পিছু তওয়াফ করতে লাগল।

তার মনে ছিল কুমতলব। মহানবী -কে একটু অসতর্ক পেলেই হত্যা করে ফেলবে।

যখন সে মহানবী -এর একদম কাছে এসে গেল তখন মহানবী তার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আরে, ফোযালাহ না-কি?

সে বললাে, জ্বী ইয়া রাসুলাল্লাহ, মহানবী বললেন – তুমি মনে মনে কী বলছিলে? এবং সে অপ্রস্তুত হয়ে উত্তর দিল, ‘না, কিছু না। আমি তাে আল্লাহর জিকির করছিলাম।

মহানবী মৃদু হেসে বললেন, “ফোযালাহ, আল্লাহর কাছে এসতেগফার কর। ফোযালাহ বর্ণনা করেন, এরপর রাসুল তার হাত মােবারক আমার বুকে রাখলেন আর সঙ্গে সঙ্গে আমার হৃদয় প্রশান্ত হয়ে গেল ।

এরপর ফুজালাহ বলেন আল্লাহর কসম, তিনি আমার বুকের ওপর থেকে হাত ওঠানাের সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে হলাে, আল্লাহ তায়ালার সমগ্র সৃষ্টির মাঝে তার চেয়ে প্রিয় মানুষ আমার কাছে আর কেউ নেই ।

বাড়ি ফেরার পথে জাহেলি যুগের এক মহিলার সঙ্গে ফোযালাহর দেখা হলাে। আগে দেখা হলে সে তার সঙ্গে খােশগল্প ও মেলামেশা করত।

ফোযালাহকে দেখে মাহিলাটি বললাে, ‘এই, এসাে আমরা একটু গল্প করি। ফোযালাহ স্পষ্ট ভাষায় তাকে প্রত্যাখ্যান করে বললাে, ‘না।

এরপর সে স্বরচিত তিনটি শ্লোক আবৃত্তি করলাে, অনুবাদ: ‘সে (একজন নারী) বললাে, চলাে না গল্প করি, আমি বললাম, না আল্লাহ ও ইসলাম তা সমর্থন করে না

যদি তুমি ইসলামের নবী ও তার বাহিনীকে মক্কা বিজয়ের দিন দেখতে, যে দিন দেব-দেবীদের অসার মূর্তিগুলাে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল তাহলে অবশ্যই তুমি অনুভব করতে আল্লাহর দ্বীন চির ভাস্বর হবে।

আর শিরকের অমানিশা পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে। এ ঘটনার পর ফোযালাহ একজন খাঁটি ও একনিমুসলমানে পরিণত হন।

শিক্ষা: এভাবে মানুষকে ক্ষমা করুন। ক্ষমা করা একটি মহৎ গুণ। এটি মানুষকে চরম শত্রু থেকে মহান বন্ধুতে রূপান্তর করে দেয়।

ইসলামিক শিক্ষনীয় গল্প – অনুপম ক্ষামার দৃষ্টান্ত ২

রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর চাচার মৃত্যুর পর তিনি একটি নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছিলেন।

তাই তিনি সাকীফ গােত্র তাকে সাহায্য করবে এ আশার তিনি তায়েফের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। যথাসময়ে তিনি তায়েফে পৌছলেন।

সেখানকার সাকিফ গােত্রের বড় বড় তিনজন নেতার সাথে তিনি সাক্ষাৎ করলেন। তারা ছিল সহােদর ভাই।

একজনের নাম আবদে ইয়ালীল, অন্যজনের নাম মাসুদ, আর তৃতীয়জনের নাম হাবীর।

রাসুল তাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন। ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানালেন। যেসব লােক তার বিরােধিতা করছে তাদের বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করার অনুরােধ জানালেন।

কিন্তু তারা কঠোর ভাষায় রাসুলের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করলাে।

একজন বললাে, “আল্লাহ যদি তােমাকে রাসুল হিসেবে পাঠিয়ে থাকেন তাহলে আমি কাবার গিলাফ ছিড়ে ফেলব।

অন্যজন বললাে, “আল্লাহ কি তােমাকে ছাড়া নবী বানানাের মতাে আর কাউর্কে পান নি? তৃতীয়জন দার্শনিকের ভঙ্গিতে বললাে, “আমি তােমার সঙ্গে কথাই বলব না।

কারণ তুমি যদি সত্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসুল হয়ে থাক তাহলে তােমার কথার জবাব দেয়া আমার জন্য বিপজ্জনক।

আর যদি তুমি মিথ্যা বলে থাক তাহলে তাে তােমার সঙ্গে আমার কথা বলার কোনাে প্রয়ােজনই নেই ।

তখন সাকিফ গােত্রের কাছ থেকে কল্যাণকর কিছু পাওয়ার আশা দিলেন।

তবে তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে, তায়েফবাসীর প্রত্যাখানের এ সংবাদ জানতে পারলে কোরাইশরা আরাে দুঃসাহসী হয়ে যাবে।

তারা আগের চেয়ে বেশি উৎপীড়ন করবে। তাই তিনি তাদেরকে বললেন, ‘তােমরা আমার কথা না মান কিংবা আমার সহযােগিতা না কর হাতে আপাতত দুঃখ নেই।

কিন্তু আমি যে তােমাদের কাছে এসেছিলাম তা কাউকে জানিয়ে দিয়ে না। এটা গােপন রেখ।

অনুপম ক্ষামার দৃষ্টান্ত

কিন্তু তারা তা মানল না; বরং রাসুল -কে নিপীড়ন করার জন্য নিজেদের কিছু ত্রীতদাস ও নির্বোধ লােককে তাঁর পেছনে লেলিয়ে দিল।

তারা তাকে গালি দিতে লাগল, চিৎকার করে তাকে বিদ্রুপ করতে লাগল । তাদের এই চেচামেচিতে রাসুলের আশপাশে অনেক মানুষ জড়াে হয়ে গেল।

এভাবে উপহাস করতে করতে তারা তাকে রাবীয়ার পুত্র ওতবা ও শায়বার একটি বাগান পর্যন্ত নিয়ে গেল। এরপর তারা চলে যায়।

রাসূল সে বাগানে প্রবেশ করে একটি গাছের ছায়ায় হেলান দিয়ে বসে পড়লেন। পুরাে শরীর জুড়ে অসহ্য বেদনা।

মনে মনে ভাবছেন কোরাইশদের পরবর্তী আচরণ কেমন হবে, তিনি কিভাবে মক্কায় প্রবেশ করবেন?

ইসলামিক শিক্ষনীয় গল্প – অনুপম ক্ষামার দৃষ্টান্ত ৩

মহানবী আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়া করলেন-

‘হে আল্লাহ, আপনার কাছেই আমি অভিযােগ করছি। আমি হীনবল, দুর্বল। ও অসহায়। আমি কোনাে কলাকৌশল জানি না।

হে দয়ার সাগর, আপনি দুর্বলদের প্রতিপালক।আপনি আমারও প্রতিপালক। আপনি আমাকে কার কাছে ন্যস্ত করছেন?

এমন অচেনা কারাে হাতে, যে আমার সঙ্গে রূঢ় আচরণ করবে, না-কি এমন কোনাে শত্রুর হাতে, যার হাতে আমার যাবতীয় বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ দিয়েছেন।

আপনি যদি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট না হন তাহলে এতেও আমি কোনাে পরােয়া করি না। আপনার দয়া ও নিরাপত্তা তাে অনেক প্রশস্ত ও প্রসারিত।

আমাকে তাতে শামিল করে নিন। আমি আপনার সত্তার সে নূরের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যার মাধ্যমে সকল অন্ধকার দূরীভূত হয়ে চারদিক আলােয় উদ্ভাসিত হয়েছে।

যে আলাের ইশারায় দুনিয়া আখিরাতের সবকিছু পরিচালিত হয়।

আমার ওপর যেন আপনার ক্রোধ ও অসম্ভুষ্টি না নামে। আপনি খুশি না হওয়া পর্যন্ত আমি আপনার সন্তুষ্টি চাই।

সকল ক্ষমতা ও শক্তি আপনারই। আপনার শক্তি ও ক্ষমতা ছাড়া কারাে কোনাে কিছু করার ক্ষমতা নেই।

এমন সময় একটি মেঘখণ্ড এসে মহানবী -এর ওপর ছায়া দিতে লাগল। মেঘ থেকে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম মহানবী -কে ডেকে বললেন,

‘হে মুহাম্মদ, আপনার সম্প্রদায় আপনাকে যা বলেছে এবং তারা আপনার সাথে যে আচরণ করেছে সবই আল্লাহ শুনেছেন এবং দেখেছেন।

তিনি পর্বত নিয়ন্ত্রণকারী ফেরেশতাদেরকে প্রেরণ করেছেন।

আপনি তাদেরকে যা ইচ্ছা নির্দেশ প্রদান করুন।’ মহানবী কিছু বলার আগেই পর্বত নিয়ন্ত্রণকারী ফেরেশতা মহানবীকে সালাম দিয়ে বললেন –

আল্লাহর রাসূল, হে মুহাম্মদ! আপনারসম্প্রদায় আপনাকে যে জবাব দিয়েছে, আল্লাহ তাআলা তা শুনেছেন। আমি পর্বতের দায়িত্বশীল ফেরেশতা।

আপনার রব আমাকে পাঠিয়েছেন। আপনি আমাকে যা খুশি আদেশ দিন।

কিন্তু মহানবী তাদের ধ্বংস করার নির্দেশ দিলেন না। তিনি বললেন হয় তো তাদের বংশধর থেকে এমন কেউ আসবে যে ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হবে।

সাহসী হােন…

আপনার সাথে আপনার সহােদর কিংবা চাচাতাে ভাইদের কোনাে দ্বন্ধ থাকতে পারে। তারা যদি আপনার ক্ষতিসাধন করে আপনি তাদেরউপকার করুন। 

তারা যদি আপনাকে অপমানিত করে আপনি তাদেরকে সম্মানিত করুন।

তারা আপনার বিপদে এগিয়ে না আসলেও আপনি তাদের ডাকে কোমরবেঁধে ছুটে যান। 

তাদের প্রতি আপনি কোনাে বিদ্বেষ রাখবেন না। কেননা, বিদ্বেষপ্রবণ ব্যক্তি কখনাে নেতৃত্ব দিতে পারে না।

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment