ইসলামিক গল্প, গল্প, ছোট গল্প, জীবন গল্প, রোমান্টিক গল্প

উপদেশ মূলক ইসলামিক গল্প – ঈমান জাগুগ গল্পে গল্পে

/

by Shah suhail

/

No Comments

কোন এক কালে প্রভাবশালি এক বাদশাহ ছিলেন। তিনি যখন অনুধাবন করতে পারলেন তার মৃত্যুর সময় নিকটবর্তি হয়ে গেছে তখন তার প্রধান উজিরকে ডেকে পাঠালেন।

উজিরকে উদ্দেশ্য করে বললেন- আমি তোমাকে তিনটি উপদেশ করে যাচ্ছি। আমার মৃত্যুর পর তুমি তা পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করবে।

উজির সম্মানসূচক জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে তাকলে বাদশাহ বললেন –

উপদেশগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনো –

  • আমি যখন মারা যাব তখন আমার মরদেহের পালকিটা যেন ওইসব বিজ্ঞ আর বড় বড় ডাক্তার বয়ে নিয়ে যায়, যারা আমার জীবদ্দশায় দেশ সেরা ছিল। আর আমার চিকিৎসা করেছিল।
  • আমার মৃত্যুর পর আমার বাড়ি থেকে কবরস্থান পর্যন্ত পুরো রাস্তায় যেন আমার সব সোনা রোপা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যেগুলো আমি জিবদ্দশায় সংরক্ষিত করে রেখেছিলাম।
  • আমার মৃত্যুর পর আমার দুইহাত যেন আমার কাফনের বাইরে বিছিয়ে রাখা হয়।

উজির অবাকদৃষ্টিতে বাদশাহকে জিজ্ঞাসা করলেন – বদশাহ মহোদয়, উপদেশগুলো আমি যথাযথভাবে পালন করব ইনশাআল্লাহ। তবে এর পেছনে রহস্যটা কী? তা জানতে আগ্রহ হচ্ছে।

বাদশাহ বললেন –

১. মানুষ যাতে একথা বুঝে যে, মৃত্যু থেকে কেউ রেহাই পাবে না। এমনকি বড় বড় ডাক্তার; যাদের উপর আমরা আস্থা করি তাদেরও আমাদের বাঁচানোর ক্ষমতা নেই।

২. মানুষ যেন একথা বুঝতে পারে যে, সারা জীবনে সে যে সম্পদ কামাই করেছে সেসবও তাকে বাঁচাতে পারবে না। সবকিছুই এভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে।

৩. মানুষ যেন একথা বুঝতে পারে যে, যেভাবে খালি হাতে দুনিয়াতে এসেছিল সেভাবেই খালি হাতে ওপারে যেতে হবে।

ধনসম্পদ আপনজান কেউই তার সাথে ওপারে যাবে না। যাবে শুধু আমলনামা, যা সে কামাই করেছে।

আরো পড়ুন

শিক্ষনীয় ইসলামিক গল্প – অকল্পনীয় হালাল রিজিক

শিক্ষনীয় মজার গল্প – সেরা তিনটি হাসির গল্প

উপদেশ মূলক ইসলামিক গল্প – ইস্তেগফারের ফল

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল – রাহিমাহুল্লাহ – একদিন সফরে বের হলেন। সফর করছিলেন একাধারে। দূর প্রদেশের কোনো এক জায়াগায় রাত তার অন্ধকারের চাদর বিছিয়ে দিল।

তিনি সামনে একটি মসজিদ দেখতে পেলেন। ভাবলেন এখানেই রাতটুকু কাটিয়ে দেই। এগিয়ে গেলেন মসজিদের দিকে। দরজায় শুধু প্রহরী দাঁড়ানো।

আহমদ ইবনে হাম্বল – রাহিমাহুল্লাহ – প্রহরির কাছে অনুমতি চাইলেন। প্রহরী অনমুতি দিল না।
সে মূলত আহমদ ইবনে হাম্বল – রাহিমাহুল্লাহ – কে চিনত না।

অনেক অনুনয় বিনয় করে বললেন। তবুও প্রহরির মন গলেনি। সে তার সিদ্ধান্তে অনঢ়। মসজিদে জায়গা হবে না।

আহমদ ইবনে হাম্বল – রাহিমাহুল্লাহ – বললেন- তাহলে আর কী করার। বাহিরেই রাতটি কাটিয়ে দিতে হবে। বলেই তিনি শুয়ে গেলেন নিজের দাঁড়ানোর স্থানে।

আহমদ ইবনে হাম্বল – রাহিমাহুল্লাহ – ছিলেন বড়ই মুত্তাকি আর পরহেযগার। দুনিয়াবিমুখ এক খোদাভিরু ইনসান।

শোয়ার সাথে সাথে তার চারপাশে আলোর ঝলকানি দেখা গেল। বিভিন্ন কারামত প্রকাশ হচ্ছিল।

বিষয়টি প্রহরির চোখ এড়িয়ে যায় নি। তাই সে তাকে সাথে নিয়ে গেল। আহমদ ইবনে হাম্বল – রাহিমাহুল্লাহ – কে শুয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে সে তার কাজে মনোযোগ দিল।

প্রহরিটি ছিল একজন রুটি ব্যবসায়ী। সে রুটি বানানোর জন্য খামির প্রস্তুত করতে লাগলো।

একদিকে হাত দিয়ে রুটি প্রস্তুত করছে আর অন্যদিকে মুখ দিয়ে ইস্তেগফার ( আস্তাগফিরুল্লাহ, ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহীম) জপছে।

অনবরত চলছেই তার ইস্তেগফার। ইমাম সাহেব অবাক দৃষ্টিতে দেখছেন তাকে।

ফজর উদিত হয়ে গেছে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল – রাহিমাহুল্লাহ – বিছানা ছেড়ে উঠলেন। ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেন প্রহরির দিকে।

জিজ্ঞাসা করলেন- সারারাত তুমি ইস্তেগফার করলে। কী তার কারণ?

প্রহরী ও ইমামের কথোপকথন

প্রহরী : হযরত! আমি দীর্ঘদিন যাবৎ রুটির ব্যবসা করি। রুটি প্রস্তুতের সাথে এভাবেই আমার ইস্তেগফার চলে।

আহমদ ইবনে হাম্বল : অবাক হয়ে বললেন- তুমি কি ইস্তেগফার থেকে কোন ফাযদা পেয়েছো?

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল – রাহিমাহুল্লাহ – ইস্তেগফারের ফায়েদা সম্পর্কে জানা সত্বেও শুধু তার মুখ থেকে উত্তরটি শোনার জন্য প্রশ্ন করলেন।

প্রহরী : ইস্তেগফারের বদৌলতে আজ পর্যন্ত যত দুআ করেছি সব দুআই আমার আল্লাহ কবুল করেছেন। একটি দুআ শুধু এখনো কবুল হয় নি।

আহমদ ইবনে হাম্বল : কোন সে দুআ? যা এখনো কবুল হয়নি?

প্রহরী : ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল কে দেখার জন্য দীর্ঘদিন থেকে আমি দুআ করে আসছি।

আহমদ ইবনে হাম্বল : প্ররহরিটিকে জড়িয়ে ধরে খুশিভরা কণ্ঠে বললেন – আল্লাহ তো তোমার এই দুআও কবুল করে নিয়েছেন।

প্ররহরী : কীভাবে হযরত?

আহমদ ইবনে হাম্বল : আমি-ই তো আহমদ ইবনে হাম্বল তোমার বুকের সাথে আছি।

প্রহরী : খুশিভরা কান্নাচোখে রবের দরবারে বলে উঠলো- আলহামদুলিল্লাহ!

গল্প থেকে শিক্ষা

ইসতেগফার এমনই এক মহা শক্তিশালী মাধ্যম যার দ্বারা সমুদ্রের ফেনা সমপরিমাণ গোনাহ হলেও ক্ষমা পাওয়া যায়। যে কোনো নেক দোয়া করলে কবুল করা হয়।

তাই আসুন! বেশি বেশি ইস্তেগফার করি। ইস্তেগফার বান্দার পাহাড়সম পাপকে পানির মত ভাসিয়ে নিয়ে যায়। রবের সন্তুষ্টি লাভে পাথেয়ের কাজ করে। ইস্তেগফার মানুষের সব চিন্তা দূরিভূত করে দেয়। অন্তরে অন্যরকম ইক প্রশান্তি যোগায়।
সর্বোপরি মনের সব ভালো আশা পূরণের অন্যতম অস্ত্র হচ্ছে এই ইস্তেগফার।

উপদেশ মূলক ইসলামিক গল্প
উপদেশ মূলক ইসলামিক গল্প

উপদেশ মূলক ইসলামিক গল্প – যেমন কর্ম তেমন ফল

বহুদিন আগের কথা। একজন যুবক ব্যবসায়ী গম নিয়ে আরবের বিভিন্ন বাজারে যাতায়াত করতেন।

সৎ ও পরহেজগার একজন ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন সকলের কাছে।

একদিন তিনি বাজারে গম নিয়ে ক্রেতারদের পথপানে চেয়ে বসে আছেন। হটাৎ একজন তরণী আসলেন তার দোকানে।

যার রং,গড়ন সবকিছুতেই লাবণ্যতার ছোঁয়া। ব্যবসায়ীর মনে শয়তান এসে সুঁই দিয়ে গেল।

ব্যববসার কথা ভুলে গিয়ে তিনি তরুণীর দিকে চেয়ে আছেন এক পলকে। তরুণীর কথায় তিনি সম্ভিত ফিরে পেলেন। এই যে! এরচে’ ভালো গম নেই?

জ্বী, সামনে আমার গোদামে ভালো গম রাখা আছে। এই বলে তিনি (শয়তানের ধোঁকায় পড়ে) তরুণীটির হাত ধরলেন।

তৎক্ষণাৎ তরুণীটি এক ঝাটকায় নিজের হাত ছেড়ে নিয়ে ঈষৎ রাগ দেখিয়ে চলে গেলেন তার পথে।

রাত্রিবেলায় ব্যবসায়ী যখন বাড়ি ফিরলেন তখন তার স্ত্রীকে গম্ভীর দেখতে পেলেন। অবাক হয়ে ভাবলেন কী হলো!

দীর্ঘ সময় থেকে আমরা একসাথে একই চালের নিচে বসবাস করে আসছি। দীর্ঘ এই পথচলায় তাকে তো এত বিষণ্ন কখনো দেখিনি।

চিন্তিত মন নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন স্ত্রীর প্রতি- সখী! কী হয়েছে তোমার? এতো মনমরা দেখাচ্ছে যে আজ তোমাকে!

স্ত্রী কান্নাজড়িত আবেগি কণ্ঠে বললেন-

ওগো মোর প্রাণের স্বামী! আজ বড় একটি কাণ্ডই না ঘটে গেল। যে ব্যক্তিটি আমাদেরকে পানি এনে দিয়ে যেত, সে প্রতিদিন পানির পাত্রের দিকে তাকিয়েই পানি দিয়ে চলে যেত।

আমি তাকে দেখতাম যে সে চলে যাচ্ছে অথচ কখনো আমার দিকে সে ফিরেও তাকাত না।

কিন্তু আজ! আমি দরজার আড়ালে দাঁড়ানো ছিলাম। পানি দেয়ার পর সে আমার দিকে এগিয়ে আসে।

আমি পিছু হটতে যাব তখন সে আমার হাত ধরে ফেলে। ধরেই আবার ছেড়ে দিয়ে তার পথে চলে যায়।

স্ত্রীর বক্তব্য শুনে স্বামী বললেন – সুবহানাল্লাহ! একবারের বিনিময়ে একবার। আমি যদি আরো অগ্রসর হতাম সেও অগ্রর হতো।

তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে শয়তানের কুমন্ত্রনায় পড়ে তিনি কী না অপরাধ করতে বসেছিলেন।

গল্প থেকে শিক্ষা

‘যেমন কর্ম তেমন ফল” গল্প থেকে কী শিক্ষা পেলাম আমরা’?

আমরা অন্যের বোন ভাতিজির দিকে খারাপ নযর দেই। লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাই। কামনার বশিভূত হয় যা ইচ্ছা তাই মন্তব্য করি।

অন্য কারো বোন ভাতিজিকে ‘মাল’ নামক জঘন্য শব্দে ভূষিত করার আগে একবার হলেও চিন্তা করার দরকার যে, আমার ঘরেও বোন ভাতিজি আছে।

ভুলে গেলে চলবে না- ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’। ‘একবারের বিনিময় একবার; বৃদ্ধি করলে বৃদ্ধি হবে’।

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment