ইসলামিক গল্প, ছোট গল্প, শিক্ষনীয় গল্প

ছোটদের ইসলামিক গল্প

/

by Shah suhail

/

No Comments

ছোটদের ইসলামিক গল্প – একটি উত্তম শিক্ষা

এক বৃদ্ধ লোক ওজু করতে বসলেন। কিন্তু তার ওযু সঠিক হয়নি। হাসান ও ইমাম হোসাইন – আলাইহিমাস সালাম – তাকে দেখেছিল। তখন তারা বয়সে ছোট ছিলেন।

তারা তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারলেন বৃদ্ধ লোকটি ওজু করতে ভুল করছেন। কিন্তু তারা তাকে সরাসরি বলতে ইতস্তত করলেন।

কেননা হয়তো বৃদ্ধ লোকটি দুটি অল্পবয়সী ছেলের কাছে থেকে ওযু শিখতে অপমান বোধ করবেন। অথবা সে ইবাদতের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

কিন্তু তারা একটি বুদ্ধি খাটিয়ে তার পাশে বসে ওজু করতে শুরু করে দিলেন। ওযুর সময় হাসান বললেন:

“হে হোসাইন আমার ওজু তোমার চেয়ে সঠিক এবং নিখুঁত।”

উত্তরে হোসাইন জোর দিয়ে বললেন তার নিজের ওজু হাসানের চেয়ে উত্তম। এটা নিয়ে তারা কথা কাটাকাটি করলেন।

অবশেষে তারা বললো : “আসুন এই ভদ্রলোকের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত নেই। তিনি আমাদের থেকে বয়স্ক। তাই তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।”

বৃদ্ধ লোকটি ধৈর্য ধরে তাদের কথাগুলো শুনছিলেন। হাসান ও হোসাইন তার দৃষ্টির সামনে একের পর এক অজু করেতে লাগলেন।

তাদের ওযু করা শেষ হলে বৃদ্ধ বুঝতে পারলেন যে, ছেলেদের ওযু পদ্ধতিগত এবং সঠিক ছিল। কিন্তু তিনি নিজে ওযু করতে ভুল করেছিলেন।

এটা বুঝতে পেরে হাসান ও হোসাইন – আলাইহিমাস সালাম -এর দিকে ফিরে তিনি মৃদুস্বরে বললেন:

“আপনি যে ওজু করেছেন তা সঠিক। আমি কৃতজ্ঞ যে তোমরা আমাকে এতো সুন্দর উপায়ে সেটা বুঝাতে পেরেছো।”

ছোটদের ইসলামি গল্প – একটি উত্তম আচরণের নমুনা

সিরিয়ার এক ব্যক্তি হাসান – আলাইহিস সালাম – কে ঘোড়ায় চড়তে দেখে তাকে অপমান করতে শুরু করলো। হাসান – আলাইহিস সালাম – লোকটিকে কোনো জবাব দিলেন না।

অবশেষে সিরিয়ান লোকটি থামলো। হাসান – আলাইহিস সালাম – তার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং হাসিমুখে তাকে সালাম করার পর বললেন:

“জনাব, আপনি একজন অপরিচিত মানুষ। হয়তো আপনি আমাকে চিনতে পারছেন না। আপনি অন্য কেউ ভেবে নিজেকে বিক্রান্ত করছেন।

আপনি যদি ক্ষমা চান তবে তা আপনাকে ক্ষমা দেওয়া হবে। আপনি যদি পরিবহন চান তবে আমার ঘোড়াটি আপনার জন্য এটি সরবরাহ করবো।

আপনি ক্ষুধার্ত হলে আমরা আপনাকে খাওয়াব। আপনার বস্ত্রের প্রয়োজন হয় তবে আমরা আপনাকে কাপড় দেব। আপনি বঞ্চিত হলে আমরা আপনার জন্য ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত করবো।

আপনার আশ্রয় প্রয়োজন হলে আমরা আপনাকে আশ্রয় দেব। আপনি যদি আপনার কাফেলা নিয়ে যেতে চান তবে আমরা আপনাকে আপনাকে পাহাড়া দেবো।

হাসানের কথা শুনে লোকটি কেঁদে বলল:

“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি এই পৃথিবীতে আল্লাহর উত্তরাধিকারী। আপনি এবং আপনার পিতা আমার কাছে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ছিলেন।

কিন্তু এখন আপনি আমার কাছে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়।”

আরো পড়ুন –

ছোটদের ইসলামিক গল্প – নবিজির স্নেহ

মদিনায় একজন লোক তার ছোট শিশুকে হারিয়ে ফেলেছিলো। অতপর সে এবং তার স্ত্রী তাকে নিয়ে খুব পেরেশান হয়ে মুহাম্মদ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর কাছে এসেছিলেন।

তখনকার দিনগুলিতে মানুষের সকল সমস্যা নিয়ে তারা মুহাম্মাদ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর দরবার আসতো। তিনি তাদের কথাগুলো গুরুত্ব দিয়ে শুনতেন এবং সমাধানের পরামর্শ দিতেন।

নবি – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর মজলিসে বসা এক লোক একথা শুনে বললো, আমি তার বাচ্চাকে শহরের শেষ প্রান্তে দেখেছি। সে অন্য কিছু বাচ্চাদের সাথে খেলছে।

একথা শুনে লোকটি নবি – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর কাছ থেকে অনুমিত নিয়ে ছুটে গেল এবং সেই স্থান থেকে তার ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে আনলো।

একথা শুনে রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – লোকটিকে বললেন, তুমি এখন থেকে তোমার ছেলেকে তার নাম ধরে ডাকবে। কখনো আমার ছেলে বলো সম্বোধন করবে না।

লোকটি বললো সে তো আমার ছেলে। আমি কেন তাকে আমার ছেলে বলে সম্বোধন করবো না।

তিনি বললেন, তার যদি কোনো এতিম বাচ্চা খেলা করে তখন তোমার ছেলেকে আমার বাচ্চা বলে সম্বোধন করলে সেই অতিম বাচ্চাগুলো কষ্ট পেতে পারে।

লোকটি – রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর নির্দেশনায় রাজি হয়ে গেল এবং তার ছেলেকে সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরে এলো।

কীভাবে নবি – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – ছোট ছোট বাচ্চাদের প্রতি সহানুভূতি ছিলেন তার একটি সামান্য নমুনা এই গল্পে ফুটে ওঠেছে।

কিন্তু তাঁর জীবনে এরকম অগণন গল্প রয়েছে যেখানে তাঁর ছোটদের প্রতি সহানুভূতি স্নেহ ও দয়ার পরম চিত্র ফুটে ওঠে।

ছোটদের ইসলামি গল্প

ছোটদের ইসলামিক গল্প – আল্লাহর খোঁজে

নয় বছর বয়সি একটি ছেলে একটা কয়েন হাতে
নিয়ে দোকানে গিয়ে বললো,

  • আপনি কি আমাকে আল্লাহ দিতে পারবেন? আপনার দোকান থেকে যদি আমাকে আল্লাহ দিতে পারেন তাহলে আমার কয়েনটি আমি আপনাকে দিবো।

এ কথাটি শুনে দোকানদার কয়েনটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে ছেলেটিকে ধমক দিয়ে বিদায় করে দিলো।কিন্তু ছেলেটি থেমে থাকলো না।

সে পাশের দোকানে গিয়ে এই কাজ করলো – আপনার দোকানে কি আল্লাহকে পাওয়া যাবে? এই দোকানদারও তাড়িয়ে দিলো।

কিন্তু, অবুঝ ছেলেটি হাল ছাড়লো না। একটার পর একটা দোকানে ঘুরতে লাগলো। ঘুরতে ঘুরতে চল্লিশটা দোকান ঘোরলো। অবশেষে একজন বয়স্ক লোকের দোকানদার তাকে জিজ্ঞাসা করলো –

  • তুমি কি আল্লাহকে কিনতে চাও? আল্লাহকে কিনে কী করবে?
  • দোকানদারের এমন প্রশ্ন শুনে ছেলেটির মনে আশা জাগলো। সে ভাবলো হয়তো এবার আল্লাহকে কিনতে পারবে।

এবার ছেলেটি বৃদ্ধ লোকের প্রশ্নের উত্তর দিতে লাগলো –

  • আমার বাবা অনেক আগে মৃত্যু বরণ করেছেন। পৃথিবীতে আমার মা ছাড়া অন্য কেউ নেই।
  • মা সারাদিন মানুষের বাসায় কাজ করে আমার জন্য খাবার নিয়ে আসে।
  • কিছুদিন থেকে মা এখন হাসপাতালে আছেন। আমার মা মারা গেলে আমি খাবো কীভাবে?

ডাক্তার সাহেবরা বলছেন, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ আমার মাকে বাঁচাতে পারবে না। তাই আমি আল্লাহকে কিনে নিতে চাই।

  • ঠিক আছে, তা তুমি কতো টাকা নিয়ে এসেছো আল্লাহকে কিনতে?
  • একটি এক টাকার কয়েন।
  • আচ্ছা সেটা দাও। আমি দেখি কি করা যায়।

দোকানি লোকটি চিন্তা করলো এক টাকা দিয়ে ছেলেটিকে কি দেওয়া যায়। কিছুক্ষণ পর ছেলেটির হাতে এক বোতল পানি দিয়ে বললো – এটা নিয়ে যাও।

তোমার মাকে এখান থেকে পানি পান করিও। আশা করি আল্লাহ তোমার মাকে সুস্থ করে দিবেন।

পরদিন সেই মেডিকেলে তার মায়ের সফল অপারেশন হলো। এরপর খুব দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন।

কিন্তু মেডিকেল বিলের কাগজ দেখে মহিলাটি অজ্ঞান হবার অবস্থা। ডাক্তার উনাকে বললো, আপনি ভয় পাবেন না। আপনার সব বিল পরিশোধ করা হয়ে গেছে।

অতপর ডাক্তার মহিলাটির হাতে একটি চিবকুট দিয়ে বললো – এটা সেই বৃদ্ধা লোকটি এটি আপনার জন্য দিয়ে গেছেন।

সেখানে লেখা ছিলো –

” আমি কে? এটা জানা অথবা আমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার দরকার নেই। আপরি আল্লাহর দয়ায় বাঁচিয়েছেন। আমি কেবল একজন মাধ্যম।

আর ধন্যবাদ দিলে তোমার ছোট শিশুটিকে দিতে পারো। তার সুদূঢ় বিশ্বাস ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজ তুমি সুস্থ হতে পেরেছো।

শিক্ষা: আল্লাহকে পেতে হলে লক্ষ লক্ষ টাকা দান খয়রাত করার প্রয়োজন হয় না।

খাঁটি বিশ্বাস ও পরিশুদ্ধ নিয়ত থাকলে এক টাকাতেও আল্লাহকে পাওয়া যায়।

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment