ছোট গল্প, রোমান্টিক গল্প, শিক্ষনীয় গল্প

ছোটদের হাসির গল্প

/

by Shah suhail

/

No Comments

ছোটদের হাসির গল্প: যিয়াদ ছিলাে খুব ভালাে একজন লােক। সে সবসময় মানুষকে সুদউপদেশ দিত। একদিন রাস্তায় তার পাশের গাড়ি থেকে একটি আওয়াজ আসছে শুনতে পেলো।

সে দেখলো এটা একটি সঙ্গীতের আওয়াজ। দূরের কাছের সবাই শুনতে পাচ্ছে এ বিকট আওয়াজ।

যিয়াদ বারবার হর্ণ বাজিয়ে পাশের গাড়ির চালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করলাে যেন সে ভলিয়ম কমিয়ে দেয়।

কিন্তু লােকটি ফিরেও তাকালাে না, ভলিয়মও কমালাে না। মনে হলাে, গানের মাঝে সে
এমনভাবে ডুবে আছে যে, আশপাশের কোনা কিছুর খবরই তার নেই।

যিয়াদ তার গাড়ি এগিয়ে ড্রাইভারের চেহারা দেখার চেষ্টা করলাে। ড্রাইভার তার চেহারার দু’পাশে রুমাল ফেলে রেখেছিলাে।

বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পর সে ড্রাইভারের চেহারা দেখতে সক্ষম হলাে। এ কী!
দাড়িবিশিষ্ট নুরানি চেহারা!

তার রাগ আরাে বেড়ে গেল । এমন দাড়িশােভিত নুরানি চেহারার একজন মানুষ কুরআন তিলাওয়াতের পরিবর্তে গুনছে পশ্চিমা গান।

হাসির গল্প

তাও আবার এমন উচ্চ আওয়াজে ইতােমধ্যে সবুজ বাতি জ্বলে উঠলাে। সবাই চলতে শুরু করলাে। যিয়াদ সংকল্প করলাে, যেভাবেই হােক লােকটিকে সদুউপদেশ দিতে হবে।

তাই সেও গাড়িটির অনুসরণ করতে লাগলাে। কিছুদূর যাওয়ার পর সামনের গাড়িটি একটি দোকানের সামনে থামলাে।

ড্রাইভার নেমে এসে কিছু কেনার জন্য এক দোকানে ঢুকলাে। যিয়াদ ও তার গাড়ির পেছনে গাড়ি দাঁড় করালাে। যিয়াদের মনে বিভিন্ন চিন্তা উকি দিচ্ছিলাে।

মনে হয়, লােকটি দোকানে ঢুকেছে সিগারেট কিনতে। একটু পর লােকটি দোকান থেকে বেরিয়ে এলাে। তার হাতে একটি ইসলামি ম্যাগাজিন।

যিয়াদের আর সহ্য হলাে না। সে কোমল স্বরে ডাকতে লাগলাে, ‘এই যে ভাই, অনুগ্রহ করে একটু শুনুন।

লােকটা কোনাে উত্তর দিলাে না, ফিরেও তাকালাে না। যিয়াদ এবার উচ্চ কণ্ঠে ডাকলাে, ‘এ যে, এ যে ভাই অনুগ্রহ করে একটু দাঁড়ান, একটা কথা শুনুন।

লােকটি তার গাড়ির কাছে চলে এলাে এবং গাড়িতে উঠে ড্রাইভিং সিটে বসলাে। সে যিয়াদের দিকে ফিরেও তাকালাে না।

উত্তেজিত যিয়াদ এবার গাড়ি থেকে নেমে এলাে। সে তার কাছে গিয়ে বললাে, ‘ভাই, আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করুন। এতবার ডাকছি, আপনি শুনতে পাচ্ছেন না?

এতক্ষণে লােকটি তার দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসলাে। এরপর সে গাড়ি স্টার্ট দিলাে। আর গাড়ি স্টার্ট দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার শুরু হলাে সেই উচ্চ স্বরের বিরক্তিকর সঙ্গীত।

যিয়াদ আরাে উত্তেজিত হয়ে গেলো। সে লোকটির একেবারে কাছে গিয়ে বললো – ভাই আপনি মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন। আমার কথার কোনো মূল্য দিচ্ছেন না।

লােকটি বারবার মুচকি হেসে। রাগে ক্রোধে যিয়াদের চেহারা লাল হয়ে গগলাে। লােকটি যেন
তার কথা শুনতে পায়, এজন্য সে আরাে উচ্চ স্বরে পূর্বের কথাগুলাে বললো।

এবার লোকটি তার কানের দিকে ইশারা করে কিছু যেন বুঝাতে চাইলো। এরপর সে পকেট থেকে ছােট্ট একটি খাতা বের করলাে।

খাতাটির প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা – আমি একজন বৃধির ব্যক্তি। আমি শুনতে পাই না। আমাকে যা বলতে চান, অনুগ্রহ করে এ খাতায় লিখে দিন।

আরো পড়ুন –

ছোটদের হাসির গল্প – মত বদল

হাসির গল্প: একবার একটি লোক গাড়ি নিয়ে বের হলাে। বিশেষ কোনাে তাড়া না থাকায় সে ধীরগতিতে গাড়ি ড্রাইভ করছিল ।

তার পেছনে একটি গাড়ি খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছিল। এবং তাকে ওভারটেক করার জন্য
হর্ণ বাজাচ্ছিল ।

কিন্তু যুবকটি তার গাড়ির গতি আরাে কমিয়ে দিল এবং হাত নেড়ে পেছনের গাড়িটিরও গতি কমাতে বললাে।

পেছনের গাড়ির চালক খুব বেশি সময় ধৈর্য ধরতে পারল না। সে বিরক্ত হয়ে সাইড দিয়ে ওভারটেক
করে চলে গেল । তবে কোনাে গাড়িরই কোনাে ক্ষতি হলাে না।

তবে এটা দেখে যুবকটির মাথা গরম হয়ে গেল। অবশ্য এর চেয়ে তুচ্ছ কিছু ঘটনায়ও সে প্রচণ্ড রেগে যায়।

সেও তাদের ধরার জন্য গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল এবং বারবার তাদেরকে থামার জন্য সিগনাল
দিতে লাগল। এ অবস্থা দেখে সামনের গাড়িটি থামল ।

তখন যুবকটি তার মাথার রুমাল খুলে সিটের পাশে রেখে একটি রড (নাটবলু খোলার যন্ত্রবিশেষ, বড় রেঞ্চ) হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে বের হয়ে এলাে।

তার চোখ থেকে যেন আগুন ঝরছিল। এ অবস্থায় সে সামনের গাড়ির যাত্রীদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

সামনের গাড়ি থেকে তিনজন যুবক নেমে আসল। যুবকদের প্রত্যেকেই ছিল পেশিবহুল ও সুগঠিত দেহের অধিকারী।

তাদের পেশী যেন তাদের পরিধেয় কাপড় ছিড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। যুবকরা তার দিকে তেড়ে
আসছিল।

তারা তার হাতে রডটি দেখে তার মনােভাব বুঝতে পেরেছিল। তাই তারাও প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে আসছিল। এটা দেখে যুবকটি খুব ভয় পেয়ে গল।

কিন্তু হঠাৎ তার মাথায় একটা বুদ্ধি এলাে। সঙ্গে সঙ্গে সে রডটা উচু করে ধরে বললাে, ‘সরি, এটা
আপনাদের গাড়ি থেকে পড়ে গিয়েছিল।

এটা আপনাদের কাছে ফেরত দিতে এসেছি। তিনজনের একজন শান্তভাবে তার হাত থেকে রডটা নিয়ে গাড়িতে উঠে চলে গেল। আর সে দাঁড়িয়ে তাদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে বিদায় জানাল।

ছোটদের গল্প – দুর্ঘটনা

ছোটদের হাসির গল্প: একবার আমি এক যুবকের সঙ্গে তার গাড়িতে চড়লাম। দেখলাম সে গাড়ি খুব সুন্দর চালায়। আমি জানতাম, এক সপ্তাহ আগে সে একটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।

আমি তাকে বললাম, ‘তুমি তাে খুব সুন্দরভাবে গাড়ি চালাও। এক সপ্তাহ আগে দুর্ঘটনার শিকার হলে কেন?

সে উত্তর দিল, ‘আমি বাধ্য ছিলাম। মানে?

হ্যা, অ্যাকসিডেন্ট না করে আমার উপায় ছিল না। জানেন, কেন?
কেন?

আমি গাড়ি নিয়ে দ্রুতগতিতে একটি ব্রিজে উঠছিলাম। সেভাবে দ্রুতগতিতে নামতে গিয়ে দেখলাম, আমার সামনে অনেকগুলাে গাড়ি সারিবদ্ধভাবে থেমে আছে।

জানি না সামনে কি কোনাে দুর্ঘটনা ঘটেছে, নাকি চেকপােস্ট ছিল। আমি হঠাৎ সারিবদ্ধ অনেকগুলাে গাড়ির মুখােমুখি হয়েছিলাম।

‘আমার সামনে চারটি লেন ছিল । সবক’টি লেনই গাড়িতে পূর্ণ ছিল। তাই আমার সামনে তখন তিনটি পথ খােলা ছিল।

এক এই সবগুলাে লেন ছেড়ে ব্রীজের ওপর থেকে পড়ে যাওয়া। দুই, শরীরের পূর্ণ শক্তি দিয়ে ব্রেক
চেপে ধরা। এ অবস্থায় আমার গাড়ি উল্টে যাবে।

তৃতীয় আরেকটি পথ খােলা ছিল। সেটা ছিল সবচেয়ে সহজ। আমি বললাম, – সেটা কী?

সে বললাে, ‘আমার সামনের চার লেনে দাঁড়িয়ে থাকা চারটি গাড়ির কোনাে একটিকে ধাক্কা দেয়া।

আমি হেসে বললাম, ‘আচ্ছা – তুমি কী করেছিলে?

সে বললাে, আমি যথাসম্ভব গতি কমিয়ে নিলাম এবং আমার সামনের গাড়িগুলাের মধ্যে সবচেয়ে কমদামী গাড়িটি বেছে নিয়ে তাতে ধাক্কা দিলাম।

এ কথা বলে সে উচ্চেঃস্বরে হেসে উঠলাে। আমি ও হাসলাম। তার কথাগুলাে নিয়ে ভেবে দেখলাম, আসলেই সে খুব বেশি তিরস্কারের উপযুক্ত নয়।

কেননা, তার সামনে সীমিত কয়েকটি পথই খােলা ছিল আর সে তুলনামূলক সবচেয়ে ভালাে পথটিই গ্রহণ করেছে। 

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment