ইসলামিক গল্প, ছোট গল্প, শিক্ষনীয় গল্প

ছোট হাদিসের গল্প

/

by Shah suhail

/

No Comments

ছোট হাদিসের গল্প – মায়ের বদ দোয়া

আবু হুরায়রা – রাদিয়াল্লাহু আনহু – থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – বলেছেন,
তিন ব্যক্তি ছাড়া কেউই দোলনায় থেকে কথা বলেনি।

তাদের একজন হলেন ইসা ইবনে মারইয়াম, অপর জন হলেন জুরাইজ। তিনি ছিলেন একজন ইবাদতকারী ব্যক্তি।

তিনি তার নামাজের স্থানে নামাজ পড়ছিলেন। তখন তার মা এসে তাকে ডাক দিলেন – হে জুরাইজ।

জুরাইজ (মনে মনে ভাবলেন) হে আমার রব, আমি নামাজ পড়ছি আর মা আমাকে ডাকছেন। অতপর তিনি তার নামাজ চালিয়ে যেতে লাগলেন। তার মা চলে গেলেন।

পরদিন তার মমা আবার আসলেন সেদিনও তিনি ছিলেন নামাজে। তিনি এসে ডাকলেন – হে জুরাইজ।

জুরাইজ বললেন, আমার রব আমি নামাজ পড়ছি। এদিকে আমার মা আমাকে ডাকছেন আমি কি করে তার জাবাব দেই। তিনি নামাজ চালিয়ে যেতে লাগলেন। সেদিনও তার মা চলে গেলেন।

তৃতীয় দিন তিনি আবার জুরাইজের মা আসলেন।সেদিনও জুরাইজ ছিলেন নামাজে। তাই তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে নামাজ পড়তে থাকলেন।

ঐদিন তিনি তার ছেলেকে বদ দোয়া দিয়ে বললেন, আল্লাহ যেন তোমাকে পতিতা নারীর ফিতনার সম্মুখীন না করে মৃত্যু না দেন।

মায়ের বদ দোয়া

সে সময় বনি ইসরাইলে একজন সুন্দরী পতিতা নারী বাস করতো। সে নারী একদিন জুরাইজের কাছে এসে বললো – তুমি চাইলেই আমি তোমার জন্য আমাকে উন্মুক্ত করে দিতে পারি।

কিন্তু জুরাইজ তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না। অতপর সেই রমণী একজন রাখালের কাছে আসলো। যে রাখালটি জুরাইজের ইবাদাগাহের নিকটে থাকতো।

সেই রাখারে কাছে এসে নিজেকে সমর্পণ করে দিলো। রাখা তার সাথে যিনায় লিপ্ত হলো। অতপর সেই নারী গর্ভবতী হয়ে গেলো।

সেই নারী তার গর্ভের বাচ্চাটি প্রসব করার পর বলতে লাগলো এটা জুরাইজের বাচ্চা। এটা জুরাইজের বাচ্চা।

তখন মানুষ জড় হয়ে গেলো। তারা জুরাইজের ইবাদাতগাহ ভেঙে ফেললো। তাকে প্রহার করতে লাগলো।

জুরাইজ বললেন তোমাদের কী হয়েছে? এসব আচরণ করছো কেন? লোকেরা বললো তুমি ঐ পতিতা নারীর সাথে যিনা করেছো। সে তোমার বাচ্চা প্রসব করছে।

জুরাইজ বললেন, শিশুটি কোথায়? তারা শিশুটি নিয়ে আসলো। জুরাইজ নামাব পড়লেন। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন।

অতপর তিনি শিশুটির পেটে চাপ দিয়ে বললেন, হে শিশু তোমার পিতা কে? শিশুটি বললো অমুক রাখাল। তখন মানুষ জুরাইজের কাছে এসে তাকে চুমু খেতে লাগলো।

তারা বললো আমরা তোমার ইবাদাতগাহ সোনা দিয়ে তৈরি করে দিবো। তিনি বললেন যেভাবে মাটি দিয়ে ছিলো সেভাবে তৈরি করে দাও। তারা তা করলো।

শিক্ষা: প্রিয় পাঠক এই গল্পটি একটি বিশুদ্ধ হাদিস থেকে সংগ্রহীত। এখানে বিশেষভাবে মায়ের দোয়া কীভাবে সন্তানের উপর প্রতিফলিত হয় সেটা ওঠে এসেছে।

মায়ের দোয়া যেভাবে সন্তানের জন্য কবুল হয় সেভাবে বদ দোয়াও কবুল হয়। তাই সকলের উচিত মায়ের থেকে সব সময় দোয়া নেওয়া। তাদের বদ দোয়া থেকে বেঁচে থাকা।

অন্যদিকে আল্লাহর ইবাদতে গেলে থাকলে আল্লাহ যে তার বান্দাকে ছেড়ে যান না তার উপমাও ফুটে উঠেছে এই গল্পে।

আল্লাহ তার প্রিয় এই বান্দা যখন মানুষের কাছে লাঞ্চিত হচ্ছিলেন তখন তার দোয়া শুনেছেন। বিস্ময়করভাবে নবজাতক বাচ্চাকে কথা বলার ক্ষমতা দিয়েছেন।

মহান আল্লাহ ইবদতে লেগে থাকার ফলে আল্লাহ তার এই বান্দার সম্মান রক্ষা করেছেন। এটাই আল্লাহ প্রেমীদের বড় প্রাপ্য।

ছোট হাদিসের গল্প – জুলাইবিবের কাহিনী

জুলাইবিব। একজন সাহাবী। তার পরনে মলিন কাপড়। চেহারা কুশ্রী। চুল এলোমেলো। থাকার জায়গা নেই। মাটিই তার বিছানা।

একদিন তিনি রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – দরবারে বসে আছেন। রাসুলুল্লাহ জুলাইবিবকে লক্ষ্য করে বললেন – জুলাইবিব, তুমি বিয়ে করছো না কেন?

জুলাইবিব উত্তর দেন – আল্লাহর রাসুল, আমার সাথে কার মেয়ে বিয়ে দিবে? আমার টাকা পায়সা ধন সম্পদ নেই। সমাজে আমার সম্মান নেই।

এর পরদিন আবার রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – বললেন, জুলাইবিব তুমি কি বিয়ে করবে না?

জুলাইবিব উত্তর দিলেন – হে রাসুলুল্লাহ, আমাকে কে বিয়ে করবে? আমার সম্মান নেই। সম্পদ নেই। একজন অবহেলিত অসহায় মানুষ আমি।

এর পরদিন আবার রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – জুলাইবিবকে বললেন, জুলাইবিব তুমি কি বিয়ে করবে না?

জুলাইব বলেন, হে রাসুলুল্লাহ, আমাকে কোন মেয়ে বিয়ে করবে? আমার সম্পদ নেই। সমাজে সম্মান নেই।

রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – বললেন, তুমি অমুক আনসারীর ঘরে গিয়ে বলো – আমাকে আল্লাহর রাসুল পাঠিয়েছেন। আমি তোমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই।

জুলাইব সেই বাড়িতে গিয়ে মেয়ের বাবাকে বললেন, রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই।

মেয়ের বাবা বললো কী আছে তোমার? আমার মেয়ে এলাকার সবচেয়ে সুন্দরি। তাকে বিয়ে করার সামর্থ কি তোমার আছে? মেয়ের মা বললো – তোমার টাকা নেই। সমাজে সম্মান নেই।

কিন্তু ঘরের কোণ থেকে মেয়ে তাদের কথা শুনে বললো – আল্লাহর রাসুল আমাকে বিয়ে করার জন্য তাকে পাঠিয়েছেন। আমি এই বিয়েতে সম্মত আছি।

মেয়ের মা বাবা বললো তুমি তাকে দেখেছো সে কতো বিশ্রী দেখতে। তার অর্থ সম্পদও নেই। মেয়ে বললো – এসব আমার দেখার প্রয়োজন নেই। আমি তাকে কবুল করে নিলাম।

তাদের বিয়ে হয়ে গেলো। বিয়ের রাতে বাসর সজ্জার আয়োজন হলো। তারা একজন অপর জনের কাছে নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস সমর্পণ করছিলো।

জুলাইবিবের কাহিনী

ছোট হাদিসের গল্প: এমন সময় যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠলো। রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – নির্দেশ জারি করেছেন সকল যেন যুদ্ধের জন্য বের হয়ে আসে।

জুলাইবিবও বেরিয়ে আসলেন। অথচ তখন ছিলো তার ফুল সজ্জার রাত। প্রিয়তমার পরশে স্নিগ্ধ হওয়ার সময়। কিন্তু তিনি জিহাদের ডাকে সাড়া দিলেন।

পরদিন যুদ্ধ শেষে নবিজি কারা কারা শহীদ হয়েছেন সেই হিসাব নিচ্ছিলেন। কিন্তু কেউ জুলাইবিবের নাম বলছিলো না।

নবিজি বললেন আমার জুলাইবিব কোথায়? আমার জুলাইবিব কোথায়? অবেশেষে তাকে পাওয়া গেলো। তিনি রক্তে রাঙা। শরীর ক্ষত বিক্ষত। নিতর দেহ।

রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – জুলাইবিবের মাথা তাঁর উরুর উপর রাখলেন। এরপর হঠাৎ তারা মাথাটি ঘুরিয়ে দিলেন।

সাহাবায়ে কেরাম এমনটা করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, জুলাইবিব খুব লাজুক ছিলো।

আমি দেখতে পাচ্ছিলাম তার জান্নাতি হুররা তার দিকে দৌড়ে আসছে। তাই সে যেন লজ্জাবোধ না করে তাই আমি তার মুখটি ঘুরিয়ে দিয়েছি।

শিক্ষা: জুলাইবিবের কিছুই ছিলো না। সম্মান বা টাকা পায়সা বা শরীর সৌন্দর্য। আমাদের সব আছে – টাকা সৌন্দর্য সামাজিক সম্মান।

কিন্তু আমরা আমাদের অর্থের কারণে, সম্মানের কারণে, সৌন্দর্যের কী ঐ স্থান লাভ করতে পারবো যা জুলাইবিব করেছিলেন?

তাহলে সফলতা লাভের মানদণ্ড কী? টাকা কড়ি, সমাজিক সম্মান? না কী বিশুদ্ধ নিয়ত ও আল্লাহর প্রেমে নিজেকে সমর্পণ?

ছোট হাদিসের গল্প – ভুল স্বীকার করার উত্তম উপায়

একবার আবু যর ও বেলাল – রাদিয়াল্লাহু আনহু – এর মাঝে কোনাে বিষয়ে তর্ক হলাে। রাসুলের মহান সাহাবি হলেও তারাও তাে রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ।

একপর্যায়ে আবু যর রাগের বশে বেলালকে বলে বসলেন, কালাের ঘরে কালাে।

বেলাল – রাদিয়াল্লাহু আনহু – এর রাসুলুল্লাহ কাছে গিয়ে অভিযােগ করলেন। মহানবী আবু যরকে ডেকে পাঠালেন ‘তুমি কি তাকে গালি দিয়েছ?

আবু যর বললেন – ‘হ্যা’ মহানবী আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি তার মায়ের কথা উল্লেখ
করে গালি দিয়েছ?

আবু যর বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ কউ কাউকে গালি দিলে তাে মা কিংবা বাবার নাম নিয়েই দেয়।
মহানবী এবার বললেন, ‘আবু যর, তােমার মধ্যে এখনাে জাহেলি যুগের প্রভাব রয়ে গেছে। (সহিহ মুসলিম: ৩১৩৯)

এ কথা শুনে আবু যর এর চেহারার রং পাল্টে গেল।
তিনি বললেন, ‘এই বুড়াে বয়সেও আমার মধ্যে জাহেলি যুগের প্রভাব বয়ে গেছে?

মহানবী বললেন, ‘ই্যা’। এরপর মহানবী আবু যরকে তুলনামূলক ছােট ও অধীনস্থদের সঙ্গে আচার আচরণের পদ্ধতি শেখালেন।

ভুল স্বীকার করার উত্তম উপায়

মহানবী বললেন, তারা তােমাদের ভাই, মহান আল্লাহ তাদেরকে তােমাদের অধীনস্থ করেছেন। অতএব অধীনস্থ ভাইটির সঙ্গে ভালাে ব্যবহার
করবে।

তুমি যা খাবে, তাকেও তা খাওয়াবে। তুমি যে ধরনের কাপড় পরবে তাকেও সে ধরনের কাপড় পরাবে। সাধ্যাতীত কাজের বােঝা তার ওপর চাপিয়ে দেবে না।

কাজ করতে যদি তার কষ্ট হয় তাহলে তুমি নিজে তাকে সাহায্য করবে। অধীনস্থদের এরপর আবু যর কী করলেন? সঙ্গে সঙ্গে বেলালের কাছে ছুটে গেলেন।

তার সামনে মাটিতে বসে সবিনয়ে ক্ষমা চাইলেন। তিনি নত হতে নিজের গাল মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলেন। যেন মাটির সঙ্গে মিশে যাবেন। এরপর বললেন, ‘আপনার পা দিয়ে আমার মুখটা মাড়িয়ে দিন।

আল্লাহু আকবার শত্রুতা ও বিদ্বেষের আগুন প্রজ্জবলিত হওয়ার আগেই তা নিভিয়ে ফেলতে সাহাবিদের হৃদয় ও মন কেমন ব্যাকুল ছিল কখনাে কারাে সঙ্গে মনােমালিন্য হলে কিছুতেই তাঁরা তা বাড়তে দিতেন না।

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment