জীবন গল্প, প্রেমের গল্প, রোমান্টিক গল্প

ভালোবাসার কিছু গল্প – কয়েকটি বাস্তব প্রেমের গল্প

/

by Shah suhail

/

No Comments

ভালোবাসার কিছু গল্প : কায়েস ইবনুল মুলাওয়াহ। একজন দুরন্ত বালক। প্রতিদিন মক্তবে যায়। নিয়মিত পড়েন।

উস্তাদকে সবক শুনান। অন্য বালকদের মতো তার সামনেও ছিলো একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ।

সেই মক্তবে লায়লা আল আমিরিয়া নামে একটি মেয়ে আসতো। মেয়েটি দেখতে তেমন সুন্দর ছিলো না। গায়ের রঙ ছিলো কালো।

তবে তার চোখ দুটি ছিলো হরিণের মতো যাদুকরী। মুখমণ্ডল ছিলো গোলাপের মতো প্রেমময়ী।

এক প্রভাতে মক্তবে পড়াকালে লায়লার চোখে কায়সের চোখ নিপতিত হয়। তখন কায়সের মনে হয় সৌন্দর্যকে দুই ভাগে ভাগ করে –

একভাগ দেওয়া হয়েছে সমস্ত জগতকে। অন্য ভাগ ভরে রাখা হয়েছে লায়লার চোখের ভেতরে।

সেই দিনই লায়লার চোখ থেকে একটি তীর বিদ্ধ হয় কায়সের হৃদয়ে। এই তীরটি ছিলো পরম ভালোবাসার। প্রেয়সীর তরে জীবন বিলিয়ে অনুপম প্রেম উপাখ্যার তৈরি করার।

কায়স বুঝতে পারে তার হৃদয়ে জন্ম নিয়েছে লায়লার প্রেমের চারা। সেই চারাটির নিবির পরিচর্যায় মনযোগী হয়ে ওঠে কায়সের প্রবৃত্তি।

লায়লাকে নিয়ে কায়স রচনা করতে লাগে অনবদ্য প্রেমের কবিতা। একে একে রচনা করে অসংখ্য কবিতা।

সেই কবিতাগুলোর অস্তি মজ্জা ছিলো লায়লার প্রেম ঐশ্বর্য ও রূপমোহের অনন্য বর্ণনায় সুগঠিত।

রাস্তার মোড়ে বা গাছের তলায় বা বাজারের চত্বরে উচ্চস্বরে পড়ে পড়ে মানুষকে শুনাতো তার রচিত কবিতাগুলো। কিন্তু মানুষ কি আর তার প্রেমের মর্ম বুঝে?

মানুষেরা শুনতো তারপর যে যার পথে চলে যেতো। কিন্তু কায়স প্রতিদিন প্রতি সকাল বিকাল তার কবিতা রচনা ও মানুষকে শুনানোর কাজ চালিয়ে যেতেই থাকে।

মানুষ তার এমন কার্মকাণ্ড দেখে তাকে মাজনুন উপাধি দিয়ে বসলো। মাজনুন অর্থ পাগল।

তাতেও তার প্রেমে সামান্যতম নোকসান ঘটাতে পারেনি। সে নব চেতনায় তার পথে অবিচল থাকলো।

ভালোবাসার কিছু গল্প – লায়লা ও মজনু – দ্বিতীয় অধ্যায়

একদিন মাজনুন লায়লার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়ে যায়। কিন্তু তার বাবা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে।

পিতা বলে সমাজে এই ধরণের বিবাহকে একটি কেলেঙ্কারি মনে করা হবে।

লোকেরা বলাবলি করবে লায়লা ও মাজনু প্রেম করেছিলো। এটা একটি প্রেমের বিয়ে।

সেই সমাজে প্রেম একটি কলঙ্কের নাম ছিলো।

তাছাড়া ছেলেটির কার্মকাণ্ড ছিলো অস্বাভাবিকতা। মানুষ তাকে পাগল বলে ডাকে। তাই লায়লার বাবা এই বিয়েতে রাজি হয়নি।

কিছুদিনের মধ্যে লায়লাকে পাশের গ্রামের একজন বয়স্ক লোকের সাথে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়।

হয়তো লায়লা সেই বিয়ে মন থেকে চাইতো না। কিন্তু বাবা ও সমাজ। কী করে তাদের ডিঙাবে?

মজনুন শোকে দিশেহারা হয়ে পড়ে। নিজের বাড়ি ও পরিবার পরিত্যাগ করে দেয়। নিস্তব্ধ কোনো প্রান্তরে অদৃশ্য হয়ে যায়। কিন্তু লায়লার প্রেমে কবিতা বন্ধ রাখেনি।

সে প্রতিদিন কবিতা লিখতো এবং বন্য প্রাণীদের পড়ে শুনাতো। বেঁচে থাকার জন্য হয়তো লায়লাকে সে পায়নি কিন্তু লায়লার প্রেমে কবিতা লিখে বেঁচে থাকতে অসুবিধা কী?

মাজনুনের মা বাবা তাদের ছেলের জন্য পেরেশান ছিলেন। তার নিরাপদে ফিরে আসার জন্য প্রতিদিন আকাঙ্ক্ষা করতেন।

তারা তার জন্য বাগানের নীচে খাবার রেখে যেতেনন। তারা আশা করতেন একদিন সে মরুভূমি থেকে তাদের কাছে ফিরে আসবে।

মাজনুনকে দেখতে প্রায়ই ভ্রমণকারীরা যেতো। পথিকরা বলেন, মজনুন তার দিন কাটাতেো নিজের কবিতা আবৃত্তি করে এবং বালিতে লম্বা লাঠি দিয়ে লিখে।

তারা বলতো সে সত্যিই একটি ভাঙ্গা হৃদয়ে পাগল হয়েছিলো। অনেক বছর পর মাজনুনের বাবা মা দুজনেই মারা যান। তার পিতামাতার প্রতি তার ভীষণ ভক্তি ছিলো।

লায়লা একজন বৃদ্ধ লোক মারফত মাজনুনের কাছে খবরটি পাঠায়। বৃদ্ধ মরুভূমিতে মাজনুনের সাথে দেখা করে খবরটি দেন।

মজনু – শেষ অধ্যায়

মাজনুনের ভগ্ন হৃদয়ে এটি ছিলো ভয়ানক আঘাত। এরপর মাজনুন সম্পূর্ণরূপে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় যে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মরুভূমিতে থেকে লোকালয়ে ফিরে আসবে না।

কয়েক বছর পর লায়লার স্বামী মারা যান। লায়লা আশা করেছিল যে অবশেষে সে তার এক সত্যিকারের ভালবাসার সাথে মিলিত হবে।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে এটা হয়নি। লায়লা তার মৃত স্বামীর জন্য শোক করার জন্য পুরো দুই বছর বাড়িতে একা কাটিয়ে দেয়।

এভাবে একদিন লায়লা মৃত্যুবরণ করে। লায়লার মৃত্যুর খবর প্রান্তরে মজনুনের কাছে পৌঁছে। সে অবিলম্বে লায়লার কবরে যাত্রা করে।

সেখানে সে কাঁদতে থাকে এবং অসম্ভব দুঃখের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে। এভাবে একটি সত্যিকারের ভালবাসা কবরে বিলিন হয়ে যায়।

ভালোবাসার কিছু গল্প – জেইন ও ক্যারল

জেইন নামে আমার এক বন্ধু ছিলো। কয়েক বছর আগে মেলানোমায় সে মারা গেছে।

সে তার রোগ সম্পর্কে জেনে আমাকে ফোন করে বলেছিলো – তাকে বেঁচে থাকার জন্য ছয় সপ্তাহ দেওয়া হয়েছে।

মাত্র ছয় সাপ্তাহ পরে সে মারা যাবে। কিন্তু সে ছিলো স্বাভাবিক। শান্ত ও স্থিরভাবে তার দিনগুলো পার করছিলো।

তার স্ত্রীর নাম ছিলো ক্যারল। তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ছিলো ত্রিশ বছরের। তারা তাদের দাম্পত্যজীবন সুখ রসেই কাটাচ্ছিলো।

জেইন ফোনে আমাকে বলেছিলো তার স্ত্রীকে এই রোগটি সম্পর্কে জানাতে চায় না। কারণ সে জীবিত থাকা অবস্থায় স্ত্রীর মুখটি মলিন দেখতে চাচ্ছিলো না।

তার ইচ্ছা ছিলো এই কয়েকটি দিন স্ত্রীকে আনন্দিত দেখতে। তাকে সুখে রাখতে। সে বিশ্বাস করতো সে জীবিত থাকাকালে তার কাছ থেকে তার স্ত্রীর প্রাপ্য কেবল সুখ। দুঃখ তার প্রাপ্য নয়।

জেইন দুই দিন তার অফিসে গিয়ে জিনিসপত্র প্যাক আপ করে চূড়ান্ত বিদায়ের দরখাস্ত দিয়ে আসে। এটি তার ৫৬ তম জন্মদিন ছিলো।

আমরা তার সেই জন্মদিনে একটি কেক খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সে মোমবাতি নিভিয়ে দিলো।

মেয়েগুলোর মধ্যে একজন তাকে জিজ্ঞাসা করলো – সে তার জন্মদিনে কী চায়?

তার উত্তর ছিলো ‘খুব ছোট একটি বই’। সে সত্যিই খুব একটি মজার লোক ছিলো এবং ভাল পছন্দ ছিলো ভালো।

সে মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে আমাকে ফোন দিয়ে জানায় তার পেনশনের টাকাগুলো পেয়ে গেছে।

অথচ সে ভেবেছিলো এই দিনটি দেখা পর্যন্ত বেঁচে থাকবে না।

ভালোবাসার গল্প – জেইন ও ক্যারল

সেই সময়ের মধ্যে জেইন তাদের ২৫ তম বিবাহ বার্ষিকীতে তার স্ত্রী ক্যারলকে নিয়ে ইউরোপ ভ্রমণ করছিলো।

তার স্ত্রীকে একটি শপথ দিয়েছিলো। তাকে ঐতিহাসিক স্থানগুলি দেখে ঘুরে দেখাবে।

সেই শপথটি পূর্ণ করার জন্যই এটি করেছিলো। সেই ভ্রমনে তারা ভেনিসের একটি গির্জায় যায়। সেখানে পুরোহিত ক্যারলকে অবাক করার জন্য অপেক্ষা করছিলো।

এটি ছিলো সেই চার্চ যেখানে তার বাবা-মায়ের বিয়ে হয়েছিল ৫০ বছরেরও বেশি আগে। যা সে জানতো না।

মারা যাওয়ার আতর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক জিনিসটি সে তার স্ত্রীর জন্য করে গিয়েছিলো।

সে তার পেনশনের টাকাগুলো ঘরের ব্যবহার্য জিনিস পত্রের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

এমন সব জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিল যা সময়ে সময়ে স্থানান্তর, নড়াচড়া বা পরিষ্কার করার প্রয়োজন হয়। যেমন তার বিছানার নিচ, জামাকাপড়, শেড ইত্যাদি।

তার মৃত্যুর নয় মাস পরেও ক্যারল সেই টাকাগুলো বিভিন্ন জিনিস নাড়াচাড়া করতে গিয়ে খুঁজে পাচ্ছিল।

এটি ছিলো তার স্বামীর পক্ষ থেকে গিফট। ( একটি ইংরেজি গল্প থেকে সংগ্রহীত)

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment