গল্প, ছোট গল্প, জীবন গল্প, রোমান্টিক গল্প

নেকড়ে সিংহ ও বালক – একটি ভালো গল্প

/

by Shah suhail

/

No Comments

একটি ভালো গল্প – এক গ্রামে একটি ছেলে ছিলো। সে সব সময় চাইত কোনো কাজ না করেই তিন বেলাই ভালো ভালো খাবার খাবে।

একদিন সে তার গ্রামের পাশ দিয়ে হেঁটে যাবার সময় খেয়াল করল – সেই বাগানে অনেক টসটসে আপেল।

সে সিদ্ধান্ত নিল – সেখান থেকে সে আপেল চুরি করবে।

যখনই সে বাগানে ঢুকে আপেল চুরি করতে লাগলো – ঠিক তখনই বাগানের মালিক তাকে দেখে ফেলে।

তারপর দৌড়ে তার দিকে আসতে থাকে।

ছেলেটা খুব ভয় পেয়ে গেল এবং দৌড়ে পাশেই এক গভীর জঙ্গলে ঢুকে পড়লো।

যখন সে জঙ্গলে হাঁট ছিল তখন সে একটি নেকড়ে দেখতে পেল।

নেকড়েটির দুটি পা নেই। ছেলেটিকে দেখে অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো আর দুই পা নিয়ে কিভাবে বেচে আছে।

একে তো তার দুই পা নেই। হাটতে পারে না। দৌড়ানো তো দূরের কথা। সে খাবার খায় কীভাবে? আর অন্যান্য প্রাণীদের থেকে নিজেকে রক্ষা কিভাবে করে?

তার পর সে যখন নেকড়ে থেকে চোখ ফিরিয়ে সামনে এগুতে লাগলো হঠাৎ একটি সিংহ কে দেখতে পেল। সিংহের মুখে এক টুকরো মাংস ছিল।

সেটা নিয়ে সিংহটি নেকড়ের দিকে যাচ্ছিলো। ছেলেটি প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড়ে দূরে চলে গিয়ে খেয়াল করল – নেকড়েটি একই জায়গায় বসে আছে।

যেহেতু তার দুই পা নেই তাই সে দৌড়াতেও পারবে না। এর পর ছেলেটি যা দেখলো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। সে দেখল সিংহটি মাংসের টুকরোটি নেকড়ের মুখের কাছে রাখল।

এটা দেখে খুশি হয়ে ভাবতে লাগলো আসলে আল্লাহর খেলা বুঝা বেশ মুশকিল।

সে ভাবতে লাগল আল্লাহ অবশ্যই তার সৃষ্টির জন্য কোন না কোন প্ল্যান রাখেন।

নেকড়ে সিংহ ও বালক – ভালো গল্প শেষ অংশ

এরপর সে ভাবতে লাগল আল্লাহ তার জন্য হয়তো কোনো একটি প্লেন অবশ্যই করে রেখেছে।

তারপর সে সেখান থেকে বের হয়ে এক রাস্তার ধারে বসে পড়লো।

আর কেউ তাকেও নেকড়ের মতো খেতে দেবে সেই আশায় সময় পার করতে লাগলো। সেখানে সেই দুইদিন অপেক্ষা করলো।

কিন্তু দুই দিন পর্যন্ত কেউ তাকে খাবার দিলো না। সে ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সেখান থেকে উঠে পড়লো।

রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই একজন সাধু বাবার দেখা পেল। তাকে সব খুলে বলে জিজ্ঞেস করল – বাবা একটা সামান্য নেকড়ের জন্য আল্লাহ কতো সুন্দর উপায়ে খাবার ব্যবস্থা করে দিলো।

কিন্ত আমার জন্য কেন তিনি কিছুই বললেন না? বাবা বললেন হ্যাঁ এটা সত্যি যে, তিনি সবার জন্য অবশ্যই প্ল্যান করে রেখেছে।

তুমিও অবশ্যই তার একটা অংশ কিন্তু তুমি ভুল ভাবে তার প্ল্যান গ্রহন করেছে।

তিনি চাননি যে তুমি সেই নেকড়ের মতো হও। তিনি চেয়েছেন তুমি জানো সেই সিংহের মতো হও।

মাঝেমধ্যে আমরা আল্লাহর প্ল্যান বুঝতে না পেরে আমাদের মনে হয় কেন আমার জন্য কিছুই করেননি? কেন আমি জীবনে কিছুই করতে পারছিনা?

আমরা হয়তো আল্লাহর প্ল্যানটা ভুল বুঝি ।মনে রাখবেন তিনি সবার জন্য কোন না কোন প্ল্যান অবশ্যই করে রাখেন।

এবার শুধু সেটা আপনার খুঁজে বের করা দরকার আশা করি এই ছোট্ট গল্প কোন একদিন আপনার জীবন আপনার চিন্তা ভাবনা বদলে দেবে।

আরো ভালো গল্প পড়ুন –

বালক ও সাধুবাবা – একটি ভালো গল্প

একটি ভালো গল্প – আপনারা যারা এই গল্পটি পরেননি তারা অবশ্যই একটু সময় দিয়ে গল্পটি পড়বেন।

আপনার কাছে এই ছোটগল্পটি হয়তো খুবই হেল্পফুল হবে। তো চলুন শুরু করা যাক।

একদিন এক ব্যক্তি এক সাধুর কাছে গেল এবং তার সমস্যার কথা বলল – সে বলল সাধুবাবা আমি জীবনে কখনো খুশি হতে পারলাম না।

ভেবেছিলাম যখন চাকরি পাব তখন বাবাকে একটা গাড়ি গিফট দেবো। কিন্তু সেটা হলো না। কারণ চাকরি পাওয়ার আগে বাবা মারা গেলেন।

ভেবেছিলাম যখন প্রমোশন পাব তখন বাচ্চাদের ঘুরতে নিয়ে যাব কিন্তু প্রমোশন হলো না।

এরকম কিছু কিছু খুশি আছে যেগুলির জন্য আমি ওয়েট করি কিন্তু কখনো পাইনি।

আমি ভেবেই পাচ্ছিনা যে আমি কি জীবনে কখনো খুশি হতে পারবো?

সাধুবাবা তখন সেই ব্যক্তিকে পাশের বাগানে নিয়ে গেলেন। যেখানে এক লাইনে অনেকগুলি গোলাপ গাছ লাগানো রয়েছে।

সাধু বাবা তখন ঐ ব্যক্তিকে বললেন লাইন দিয়ে এই ফুল দেখতে দেখতে যাও এবং সবথেকে সুন্দর ফুল তুলে আমার কাছে নিয়ে এসো।

কিন্তু একটা কথা মনে রাখবে একবার যেই ফুল দেখে এগিয়ে চলে যাবে সেখান থেকে পিছিয়ে আসা যাবেনা কিন্তু ফুল তোমাকে আনতেই হবে।

তখন ঐ ব্যক্তি চলা শুরু করলো। সে কিছু বড়ফুল দেখল। কিছু ছোট ফুল দেখল।

প্রত্যেক ফুলের কাছে গিয়েও তুলতে হাত দেয় না। সে ভাবেে এটা থেকেও বড় ও সুন্দর ফুল হয়তো সামনে রয়েছে।

এই ভাবতে ভাবতে এক সময় সে একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেল। তখন সে দেখল আর শুধুমাত্র কিছু শুকিয়ে যাওয়া ফুল রয়েছে।

বালক ও সাধুবাবা – শেষ অংশ

তার মধ্যে থেকে যেটা একটু ভালো রয়েছে সেই ফুল টা তুলে সাধু বাবার কাছে নিয়ে গেল।

বললো রাস্তায় আমি অনেক ছোট বড় ও সুন্দর সুন্দর ফুল দেখেছি।

কিন্তু এই ভেবে এগিয়ে গেছি যে সামনে হয়তো এর থেকেও বেশি সুন্দর ও বড় ফুল রয়েছে।

কিন্তু শেষে গিয়ে শুধু শুকিয়ে যাওয়া ফুল ছাড়া আর কিছুই পেলাম না।

তাই তার মধ্যে থেকে এটি শুকনা ফুটা নিয়ে এলাম। তখন সাধু বাবা বললেন, হে বৎস তুমি সবথেকে সুন্দর ফুলের আশায় এগিয়ে গেলে।

কত সুন্দর সুন্দর ফুলের মধ্যে থেকে এই শুকনো জবা ফুল নিয়ে এলে।

এই গার্ডেন ধরো তোমার জীবন আর এই ফুল তোমার জীবনে আশা, ছোট বড় খুশি।

তুমি এইভাবে চলতে থাকলে যে, সামনে সবথেকে সুন্দর ফুল রয়েছে।

তুমি সুন্দরতম ফুলটি খুঁজতে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত গেলে। কিন্তু কোনো ফুল গ্রহণ করলে না।

ঠিক এরকমই জীবনে আশা, ছোট ছোট খুশি গুলিকে ত্যাগ করলে শুধুমাত্র বড় খুশীর অপেক্ষা করে।

কিন্তু একটা সময় তোমার জীবন ফুরিয়ে যাবে কিন্তু তোমার সেই কাঙ্খিত আশার হয়তো দেখা পাবে না।

আর যখন তুমি এই সত্য বুঝতে পারবে তখন জীবনে আর কোন খুশি বাকি থাকবে না।

বন্ধুরা এই ছোট্ট একটি গল্প দিয়ে নিজেকে এবং আপনাকে মনে করিয়ে দিলাম যে, জীবনে আসা ছোট খুশি গুলিকে প্রত্যাখা না করে সেলিব্রেট করুন।

আগামীকাল যেন আজকের জন্য পরিতাপ করতে না হয়। সব সময় খুশি থাকার চেষ্টা করুন।

বন্ধুরা গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment