গল্প, ছোট গল্প, জীবন গল্প

ভূতের গল্প – লোমহর্ষক কয়েকটি গল্প

/

by Shah suhail

/

No Comments

ভূতের গল্প। কিছু ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প আমরা আজকের শেয়ার করব। ছোট ছোট কয়েকটি গল্প এখানে রয়েছে। কিন্তু এই ভূতের গল্প আপনার শিহরণ জাগাবে।

যাদের সাহস আছে বা যারা ভূতের গল্প পড়ে অভ্যস্ত আছেন তারা কেবল এই গল্পগুলো পড়বেন। অন্যথা আপনি ভয়ে শিহরিত হয়ে রাতের ঘুম নষ্ট করবেন না।

ভূতের গল্প – একটি লম্বা হাত

কমলা বানু তার পাশের ঘরের মেহেরুন্নেসাকে ডাক দিলেন। বললেন – ফজরের নামাজের সময় হয়ে গেছে।

তুমি ঘুম থেকে উঠে এসো। আমরা এক সাথে ওযু করে নেই।

কমলা বানুর ডাক শুনে মেহেরুন্নেসা ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন। মেহেরুন্নেসা ও কমলা বানু পুকুরে চলে গেলেন অজু করতে। 

ফজরের সময়ে গ্রামের নারীরা একে অন্যকে নামাজের জন্য ঘুম থেকে জাগিয়ে দেন। এটা গ্রাম বাংলার প্রাচীন প্রচলন। এই গল্পটি এ রকমই একটি কাহিনী নিয়ে রচিত।

পুকুর ঘাটে গিয়ে কমলা বানু মেহেরুন্নেসাকে বললেন আমাদের পুকুরের পাড়ে যে তেঁতুল গাছ আছে – ওই গাছে পাকা পাকা তেঁতুল রয়েছে।

আজান হওয়ার কিছু সময় বাকি আছে। চলো মানুষ উঠার আগে কিছু তেঁতুল খেয়ে নেই। 

কমলা বানুর কথা শুনে শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল মেহেরুন্নেসার। যে শৈশবে এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফালাফি করতেন। খেলাধুলা করতেন।

মেহেরুন্নেসা ভাবলেন অন্ধকার রাতে কেউ দেখবে না। তাই এ গাছে উঠে কিছু তেঁলল পেড়ে নিই। কমলা বানুর কথায় রাজি হয়ে মেহেরুন্নেসা চলে গেলেন তেতুল গাছের কাছে।

তখন একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। কমলা বানু এক লাফ দিয়ে গাছের ডালে উঠে যায়। সেখান থেকে বলে মেহেরুন্নেসা তুমিও আমার মতো তেঁতুল গাছে উঠে যাও।

একটি লম্বা হাত

মেহেরুন্নেছা বলে আমি কিভাবে একটি গাছের ডালে উঠব? তুমি এটা কি করলে? এভাবে কেউ গাছের ডালে উঠতে পারে? কমলা বানু বলে আমি তোমাকে সাহায্য করছি।

তুমি আমার হাত ধরে উঠে যাও। কমলা বানু গাছের ডাল থেকে তার হাতটি লম্বা করে নিচে নামিয়ে দেয়।

এটা দেখে মেহেরুন্নেছা প্রচন্ড রকম ভয় পায়। সে ঘরের দিকে দৌড়াতে শুরু করে। তখন কমলা বানুর সেই লম্বা হাতটি মেহেরুন্নেছা পিছে পিছে আসতে থাকে।

হাতটি মেহেরুন্নেসার পিছে পিছে লম্বা হচ্ছিলো। এতো লম্বা হলো যে, গাছের ডাল থেকে ঘরের দরজা পর্যন্ত চলে এলো।

মেহেরুন্নেসা চিৎকার করতে লাগলো। তার চিৎকার শুনে বাড়ির অন্যান্য মানুষজন জেগে ওঠে। তারা সবাই এসে বলতে থাকে কি হয়েছে? কি হয়েছে?

মেহেরুন্নেসা সব খুলে বলে। এটা শুনার পর ওপাশ থেকে কমলা বানু বলো আমি আবার কি করলাম? আমি সবে মাত্র তোমার চিৎকার শুনে ঘুম থেকে ওঠে এলাম।

সে সময় একজন বলে আরে এখন রাত মাত্র দুইটা বেজেছে। এখনতো ফজরের সময় হতে অনেক বাকি।

তখন সবাই বুজতে পারে মেহেরুন্নেছা সাথে যা ঘটেছে সেটা ভয়ঙ্কর ভূতের  কারসাজি।

পাঠক বন্ধুরা, অনেক ভূতের গল্প আছে – যা আমাদের শুনতে ভালো লাগে কিন্তু একাএকা থাকলে ভয়ও করে।

এরকম আরো কিছু ভূতের গল্প আমি নিচে দিচ্ছি। আপনারা পড়ে লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী হতে পারবেন।

একটি ভিক্ষুক ও তিন ভূত

এই ভূতের গল্পটি হচ্ছে একজন ভিক্ষুকের কাহিনী নিয়ে। একজন ভিক্ষুক ভিক্ষা করার সময় তার সাথে তিনটি রুটি নিয়ে গেল। সে সারাদিন ভিক্ষা করে করে ক্লান্ত হয় একটি গাছের ছায়ায় নিচে বসে।

বসে বসে ভাবতে থাকে তিনটা রুটি আমার সাথে আছে। তিনটা কি খেয়ে ফেলবো। নাকি একটা খাব। না কি দুটো খাব।

এটা ভাবতে ভাবতে এক পর্যায়ে সে বলে একটা খাব, দুইটা খাব, না তিনটিই খেয়ে ফেলব।

সেই গাছের উপরে ছিল তিনটি ভূত। তারা একে অপরকে বলল, সে আমাদের তিনজনকে খেয়ে  ফেলতে চাইছে।

একটি ভূত ভিক্ষুকের কাছে এসে বলে মশাই আমাকে আপনি খাবেন না।

আপনাকে আমি বিরাট পুরস্কার দেব। ভিক্ষুক কিছুই বুঝতে পারে না। সে বলে আমি তো বুঝতে পারছি না তুমি কি বলছ।

ভূতটি সোনার আংটি বের করে দিয়ে বলে এটা নিয়ে যান আর তার বিনিময়ে আপনি আমাকে ছেড়ে দেন। আপনি আমাকে খাবেন না।

এরপর দ্বিতীয় ভূতটি নেমে এসে বলে – দাদাভাই আমাকে আপনি খাবেন না। আমাকে না খেলে আপনাকে আমি পুরস্কার দেব। এই বলে সে একটি শোনার পাত্র ভিক্ষুকের হাতে দেয়।

এরপর তৃতীয় ভূতটি গাছের ডাল থেকে নেমে এসে বলে – আপনি আমাকে খাবেন না। যদি আমাকে না খান তবে আপনাকে আমি পুরস্কার দেব।

এই সে ভিক্ষুকের হাতে একটি সোনার থালা তালা দিয়ে চলে যায়। ভিক্ষুক এই সোনার জিনিস গুলো নিয়ে তার বাড়িতে আসে।

বাড়িতে আসার পর তার স্ত্রী বলে কি ব্যাপার আজ দেখি সোনার জিনিস পত্র ভিক্ষা করে নিয়ে এসেছেন।

তখন ভিক্ষুক তার স্ত্রীকে কাহিনী বুঝিয়ে বলে।

এটা শুনে স্ত্রী বলে তাই নাকি। তাহলে আপনি আগামী কালকে আরো বেশি করে রুটি নিয়ে যাবেন।

আর গাছের নিচে বসে – বলবেন একটা খাব, দুইটা খাব, সবকটি খাব।

স্ত্রীর কথা শুনে লোভ জন্মায় ভিক্ষুকের। সে বলে ঠিক আছে, ঠিক আছে। কালকে আরো বেশি করে রুটি বানিয়ে দিও।

আরো গল্প পড়ুন –

একটি ভিক্ষুক ও তিন ভূত

পরের দিন ভিক্ষুক রুটি নিয়ে যায় সেই গাছের নিচে। সেখানে গিয়ে বলে – একটা খাবো। দুটো খাবো। তিনটে খাব। সব গুলোকে খেয়ে ফেলবো।

এবার ভূতেরা খুব রাগান্বিত হয়ে বলাবলি করতে লাগে গতকাল তাকে বিদায় করলাম সোনা দিয়ে। আজকে আবার সবাইকে খেয়ে ফেলতে চাইছে।

তারা বলে আমাদেরকে খাওয়ার আগে আমরা তাকে একটা শিক্ষা দিয়ে দিই। সব ভূতেরা ভিক্ষুকের কাছে যায়।

ভিক্ষুককে ঝাপট মেরে ধরে নিয়ে একটি নির্জন জঙ্গলে ফেলে দেয়। সেই জঙ্গলে একটি কুটনি বুড়ি ছিল।

ভিক্ষুক কোন দিকে রাস্তা পাচ্ছিল না তার বাড়িতে ফেরার। জঙ্গলে উদভ্রান্তের মত হাঁটাহাঁটি করছিল।

তখন সেই কুটনি বুড়ি এসে বলে – বাবা তোমার কি হয়েছে? ভিক্ষুক বলে আমি আমার বাড়িতে যেতে চাচ্ছি। কিন্তু রাস্তা পাচ্ছিনা।

কুটনি বুড়ি বলে আসো আমার সাথে। তোমাকে জঙ্গল থেকে বের করে দেই। কুটনি বুড়ি তাকে নিয়ে যায় একটি বিরাট বটগাছের নিচে। গিয়ে বলে এখানে তুমি একটু বসো।

এই বটবৃক্ষের নিচে একটি ইট ছিল। বুড়ি ইটটি এখান থেকে সরানোর সাথে সাথে সেখানে একটি সরু পথ দেখা গেলো।

বুড়ি বলল এই পথ দিয়ে তুমি প্রবেশ কর। এখান দিয়ে তুমি তোমার বাড়িতে চলে যেতে পারবে।

ভিক্ষুক তাই করল। প্রবেশ করার পর দেখতে পেল এক অদ্ভুত জগতে প্রবেশ করেছে সে। এখানে শুধু ভূতদের বসবাস।

সব ভূত তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে। বলছে আমাদের সবাইকে খেয়ে ফেলতে চেয়েছিল।

তাকে আজ আমরা আমাদের হাতের কাছে পেয়েছি। তারা তাকে বেঁধে ফেললো। আর সবাই অট্টহাসি দিতে থাকলো। সেখানেই ভিক্ষুকের জীবন হয়ে গেল।

ভূতের গল্প – একটি সাদা লাশ

এই গল্পটি হচ্ছে একটি সাদা লাশের ভূতের গল্প। আশা করি এটিও আপনাদের ভালো লাগবে।

একটি স্টুডেন্ট ঢাকা থেকে তার গ্রামের বাড়িতে যাবে। গ্রামের বাড়ী হচ্ছে মৌলভীবাজার। ঢাকা থেকে আসতে আসতে রাত হয়ে গেছে প্রায় বারোটা।

তার বাড়িতে যখন যাবে তখন রাস্তায় কোনো রকম গাড়ি ছিল না। অনেক কষ্ট করে একটি রিকশা মেনেজ করে বাড়ির দিকে রওয়ানা হল।

সে রিকশায় করে একটি পুরোনো শ্বশানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। সেই জায়গাটা নিরব নিস্তব্ধ। 

দিনের বেলায়ও সেখান দিয়ে মানুষজন যাতায়াত করতে ভয় পায়।

তার উপর একটু আগে বৃষ্টি হয়েছে বৃষ্টি হয়েছে। এখনো পুরোপুরি থামেনি। আবাছা আবাছা লাগছে চারদিক।

শ্বশানের নিটক একটি কালভার্টের কাছে যেতেই সে সাদা কাপন মুড়ানো একটি লাশ দেখতে পেল।

রিকশা থেকে নেমে ভয়ে ভয়ে কাছে গেলো। তখনই লাশটি জীবন্ত হয়ে তাকে তাকে ধাক্কা মেরে কালভার্ট থেকে নিচে ফেলে দিল।

নিচে পড়ার সময় সে তার রিস্কার ড্রাইভারকে মামা মামা বলে ডাকতে থাকে।

কিন্তু রিস্কার ড্রাইভার কোন সাড়া দেয় না। এরপর ছেলেটি কালভার্টের নিচ থেকে ওঠে আসে।

এসে দেখে রিস্কার ড্রাইভার  মৃত অবস্থায় সাদা কাপন পড়ে রয়েছে। ভাবে যে ভূত থাকে কালভার্ট থেকে নিচে ফেলেছিল সেই ভূত হয়তো রিস্কার ড্রাইভার কে মেরে ফেলেছে।

ড্রাইভার এর শরীরে ছেলেটি হাত দেয়। এমনি লাশটি জীবন্ত হয়ে এমন একটি বিকট শব্দ করে যে শব্দটি শুনে তার হার্টবিট বেড়ে যায়। সে প্রচণ্ড রকম ভাবে চিৎকার করতে থাকে।

কিন্তু গভীর রাতে নির্জন স্থানটিতে কেউ তার চিৎকার শুনতে পায়নি। সে বুঝতে পারে আসলে যাকে ড্রাইভার মনে করে এনেছিল সে কোন রিস্কার ড্রাইভার ছিল না। এটি একটি ভূত ছিল।

সে সেখান থেকে দৌড়ে পালাতে লাগে। পালানোর সময় চারিদিকে শুধু ভৌতিক আওয়াজ শুনতে পায়।

দোড়াতে দোড়াতে একটি বাড়িতে কাছে চলে আসে। সেখানে এসে মানুষজনকে তার ঘটনায় বলে।

তখন মানুষজন থাকে রাত্রিযাপনের জন্য তাদের বাড়িতে থাকতে দেয়। সকালে সে তার বাড়িতে ফিরে।

বন্ধুরা ভূতের গল্প গুলো কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। 

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment