রোমান্টিক গল্প

শিক্ষনীয় ইসলামিক গল্প – অকল্পনীয় হালাল রিযিক

/

by Shah suhail

/

No Comments

শিক্ষনীয় ইসলামিক গল্প – আমার বিয়ের মাত্র দুই মাস হইছে। সামনে ঈদুল ফিতর। বাকি মাত্র চৌদ্দ দিন। কাজকাম নেই।

দীর্ঘদিন থেকে ঘরেই বসে আছি। যা ছিল তা দিয়েই চলছিলাম এতদিন। এখন পকেট একদম ফাঁকা। ঘরে নতুন স্ত্রী। সামনে ঈদ।

স্ত্রীকে নিয়ে এটাই আমার প্রথম ঈদ। একটা শাড়ীও কিনে দিতে পারব না! এক কেজি গোশত কিনার টাকাটাও নেই।

একরাশ চিন্তার কালোমেঘ ঘোরাফেরা করছে মাথায়। কোথায় যাব? কার কাছে বলব? আজ পর্যন্ত তো কারও কাছে এক টাকাও ধার চাইনি।

বাবা মারা যাওয়ার অনেক দিন হয়ে গেছে। মাও বার্ধক্যের শেষপ্রান্তে। মা, বউ, আমি, এই তিনজনের সংসার। কখনও কল্পনায়ও আসে নি, এমন অবস্থার মুখামুখি হতে হবে আমাকে।

কয়দিন থেকে চিন্তার অথৈ সাগরে যখন হাবুডুবু খাচ্ছি, তখন মাথায় কারো আলতো ছোয়া অনুভব করলাম। চোখ তুলে থাকালাম। মমতাময়ি মায়ের খুশিভরা চেহারা।

শান্তনার পরশ বুলিয়ে বললেন- এই নে বাবা! প্রতিদিনের আয় থেকে কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিলাম। এগুলো ভেঙে কিছু খরচপাত্তি নিয়ে আয়।

শিক্ষনীয় ইসলামিক গল্প – দ্বিতীয় অংশ

ঈদের আর মাত্র চারদিন। মায়ের কপালে চুমু খেয়ে পোস্ট অফিসের দিকে পা বাড়ালাম। মুদ্রাগুলো ভেঙে কিছু সওদা নিয়ে আসব।

পোস্ট অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দীর্ঘ লাইন। একসময় আমার সিরিয়াল আসল।

এগিয়ে গেলাম। মুদ্রাগুলো ভাঙালাম। ফিরতে যাব, তখন পায়ে কিছু একটা জিনিস লাগল। এদিক সেদিক তাকালাম।

নাহ! আর কেউ দেখে নি। জুতো ঠিক করার অজুহাত করে নিচু হলাম। হাতে নিলাম পুঁটলিটা। বিশাল অংকের একটা টাকার ব্যাগ পড়ে আছে।

একটু চিন্তার সাগরে ডুবে গেলাম। শয়তান এসে সুঁই দিচ্ছে- কত টাকা! দেখছিস? এই অভাবের মাঝে এটাই তোর সুখের পাথেয়। কেউ দেখছে না। নিয়ে নে।

বিবেক বাধা দিল। ফিরে যেতে মনস্থ করলাম। তখনই বউয়ের চেহারাটা চোখের সামনে ভেসে ওঠল।

এটাই তো মোক্ষম সুযোগ, বউকে খুশি করার। এভাবে সাতপাঁচ ভেবে আশপাশে আবার তাকালাম। নাহ, এখনও কেউ দেখছে না আমাকে। পুঁটলিটা নিয়ে দ্রুত ছুটলাম বাজারের দিকে।

কিছুদূর চলে আসার পর আমার মানবহৃদয় জেগে ওঠল। আমি এই টাকাগুলো দিয়ে অনেক সওদা কিনব, পরিবারকে খুশি করব, বউয়ের মুখে হাসি ফুটাবো।

কিন্তু এর মূল মালিক যে, তার অবস্থা এখন কেমন? হন্য হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে নিশ্চয়।

আবার পথ ধরলাম পোস্ট অফিসের। একজন নিরাপত্তাকর্মীকে দেখে ডাক দিলাম,এই যে –
একটু আগে এই টাকার পুঁটলিটা ওখানে পড়ে থাকাবস্থায় পেয়েছি।

নিরপত্তাকর্মী আমাকে বলল- এটা একজন বৃদ্ধ লোকের। একটু আগেই তিনি এখানে পাগলের মত খুঁজছিলেন।

আমি পুঁটলিটা নিরাপত্তাকর্মীর হাতে দিলাম, উনি আবার আসলে দিয়ে দিবেন আপনি। এই বলে পুঁটলিটা তার হাত ধরিয়ে দিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম।

আরোও পড়ুন

শিক্ষনীয় ইসলামিক গল্প – তৃতীয় অংশ

শিক্ষনীয় ইসলামিক গল্প
শিক্ষনীয় ইসলামিক গল্প

বসে আছি একমনে। একবার চিন্তার সাগরে সাতার কাটছি, তো আরেকবার খুশির হাওয়ায় দুলছি।

চিন্তাখুশির সাথে যখন লুকোচুরি খেলছি তখন বউ এসে আমার সামনে হাজির। চোখে বিষয়টি আড়াল হয় নি তার চোখে।

প্রশ্ন করে বসল আমাকে, কী হয়েছে আপনার? এমন দেখাচ্ছে কেন আপনাকে? ফাকি দিতে পারিনি তাকে। সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বললাম তার কাছে।

সব শুনে বড়সরো করে বলে ওঠল, আলহামদুলিল্লাহ! আমাকে শান্তনার বাণী শুনাল- চিন্তা করবেন না। আল্লাহ এর চেয়ে উত্তম কিছু রেখেছেন আপনার জন্য।

পরদিন সকাল ১০ টা। পোস্ট অফিসে গিয়ে নিরপত্তাকর্মীকে ডেকে পুঁটলিটার কথা জিজ্ঞাস করলাম।

হাসিমুখে বলল- যার মাল তিনি এসে নিয়ে গেছোন। লোকটি অনেক খুশি হয়েছেন। আপনার জন্য অনেক দুআও করেছেন।

আল্লাহর কাছে মন থেকে শোকরিয়া আদায় করে ফিরে আসলাম আমি।

ঈদের বাকি আর একদিন। মায়ের দেয়া সামান্য টাকা আছে পকেটে। কিছু জিনিস হলেও কিনতে পারব। মোটামুটি হলেও ঈদটা কাটিয়ে দিতে পারব। থলে হাতে বাজারের দিকে রওয়ানা দিলাম।

একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কী কিনব! কীভাবে কিনব! হিসাব কষছি। টাকার সাথেও অঙ্কটা মিলাচ্ছি।

তখন দেখলাম একজন বৃদ্ধ লোক পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে লক্ষ্য করছেন।
আমার দিকে এগিয়ে আসলেন।

শিক্ষনীয় ইসলামিক গল্প – শেষ অংশ

কী এত চিন্তা করছো বাবা? জিজ্ঞাসা করলেন আমাকে। আমি ঘটে যাওয়া সব কাহিনী খুলে বললাম তাকে।

আজ সামান্য কিছু টাকা নিয়ে সওদা কিনতে এসেছি শুনে তিনি ঈষৎ হাসি দিলেন।

আমাকে বললেন- আমি একটু চিন্তায় আছি। বৃদ্ধ মানুষ। বাড়িও এখান থেকে অনেক দূর। গাড়িঘোড়ারও কোন সুবিধা নেই। কিছু সওদা কিনার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু কীভাবে যে নিয়ে যাব।

আমি বললাম- আপনি যদি সুযোগ দেন আমি আপনাকে সহযোগিতা করতে পারি। তিনি খুশি হয়ে আমার হাত ধরলেন।

একটি মার্কেটের ভেতরে ঢুকলেন আমাকে নিয়ে। অনেক টাকার জিনিসপত্র কিনলেন। বড় বড় দুটি ব্যাগ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।

মার্কেট থেকে বের হয়ে আসলেন। আমি ব্যাগ দুটো নিয়ে পেছনে পেছনে তাকে অনুসরণ করছি।

ভারি ওযন হওয়ার আমার বয়ে নিয়ে আসাটা কষ্ট হচ্ছিল। বাইরে এসে এক জায়গায় ব্যাগ দুটি রেখে বললাম-

কোনদিকে যাবেন? তিনি আমার হাতে ব্যাগ দুটি আবার ধরিয়ে বললেন- এগুলো তোমার জন্য হাদিয়াস্বরূপ। নিয়ে যাও।

আমি অবাক হয়ে প্রশ্নচোখে তার দিকে তাকালাম? ঠোঁঠে হাসির রেখা টেনে বললেন-
সেদিন তুমি যে টাকার পুঁটলিটা পেয়েছিলে তার মালিক ছিলাম আমি।

নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে আমি তোমার সব পরিচয় সংগ্রহ করেছিলাম। দুইদিন থেকে তোমাকে খোঁজে বেড়াচ্ছি।

আমি না করা সত্তেও তিনি জোর করে ব্যগ দুটি আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। আমি অবাক আর খুশির মাঝে চক্কর খেতে খেতে বাড়ি ফিরে আসলাম।

আমার মা আর স্ত্রী অবাক দৃষ্টিতে প্রশ্নচোখে আমার দেকি তাকিয়ে আছেন?
ঘটে যাওয়া সবকিছু খুলে বললাম তাদের। অবাক হয়ে খুশি মনে দুজনই বলে উঠলেন সুবহানাল্লাহ!

গল্প থেকে শিক্ষা

প্রিয় পাঠক! কেমন লাগল গল্পটা? এবার আসুন একটু অতীতে ফিরে যাই। এই পর্যন্ত কত কুঁড়ানো মাল ভক্ষণ করেছি। এটাই তো ভাবছেন?

কুঁড়ানো এই সম্পদ নিয়ে আমরা হয় তো অনেক আনন্দ উল্লাস করেছি। কিন্তু মালিকের অবস্থাটা তখন কেমন হয়েছিল আদৌ কি চিন্তা করেছি?

আসুন না! আজই এসব মালের প্রকৃত মালিক জানা থাকলে ফিরিয়ে দিই। আর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

যত মালই চোখের সামনে পড়ে থাকতে দেখি না কেন, ভক্ষণ করব না আর। প্রকৃত মালিক জানা থাকলে ফিরিয়ে দিব।

রাসুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – বর্ণনা করেন –

“তুমি এক বছর যাবত কুড়িঁয়ে পাওয়া মাল সম্পর্কে ঘোষণা দিতে থাকবে। অতঃপর তুমি ওই থলি ও তার বন্ধন চিনে রাখবে।

যদি মালিক ফিরে আসে ফিরিয়ে দিবে।আর না আসলে এক বছর পর কোন ফকিরকে দিয়ে দিবে। তোমার প্রয়োজনেও খরচ করতে পারো। (যদি তুমি এই মালের মুখাপেক্ষি হও)।” ( আবূ দাউদ)

এই হাদীসের উপর আমল করব। মনে রাখবেন! আল্লাহ কাউকে অভাব দিয়ে মৃত্যু দেন না।

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment