গল্প, জীবন গল্প, রোমান্টিক গল্প

শিক্ষনীয় গল্প – হারকিউলিস ‍

/

by Shah suhail

/

No Comments

শিক্ষনীয় গল্প – হারকিউলিস

প্রথম পর্ব

দূর থেকে ডাক দিলাম – আফসিন। সে আমার দিকে তাকায়নি। হয়তো ডাক তার কানে পৌঁছোয় নি। আমি কাছে গিয়ে তার পেছনে দাঁড়ালাম।

সে একটি নতুন কবরের দিকে চেয়ে আছে। ওটা তার ছোট বোন আসলিহানের কবর। আফসিনের চোখে অশ্রু। মুখে বিন্দুবিন্দু ঘাম। যেন বুকের বিষাদ থেকে সৃষ্ট বাষ্পকণা।

বুদ্বুদ ওঠার মতো আসলিহানের প্রতিটি স্মৃতি ওঠছে আফসিনের মনেরপটে। চোখের পাতায়।

আসলিহান আফসিনকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করতো। এই সম্বোধনটি শুনার জন্য আফসিন প্রতীক্ষা করতো দু’টি কারণে।

তাকে ‘তুই’ ডাকার অপরাধে মা আসলিহানকে বকাঝকা দিতেন। অন্যদিকে আসলিহান ঝগড়া করতে গিয়ে আস্তিন গুটিয়ে আঙুল তুলে ‘তুই তুই’ বললে আফসিন মন থেকে এটা উপভোগ করতো।

এর জন্য আফসিন ইচ্ছা করেই আসলিহানের সাথে কামে অকামে ঝগড়া বাঁধাতো।

একদিন আসলিহনকে আফসিন বলেছিলো তোর মতো পাগলা ঝগড়াটে বোন আমার দরকার নেই।

যতো দ্রুত সম্ভব তোর বিয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। কথাটা শুনে আসলিহান দৌড়ে গিয়ে রান্নাঘর থেকে বটি নিয়ে আসে।

অবোধ শিশুর মতো বলে তুই আমাকে বিয়ে দিয়ে দিবি! দাঁড়া তোকে আমি পৃথিবীতেই রাখব না। কী কাণ্ডই না ঘটিয়েছিলো আসলিহান।

সামান্য হলে আফসিনের গায়ে আঘাতটা লেগে যেতো। এরপর কান ধরে এবং বিয়ে না দেওয়ার শর্তে মুক্তি পেয়েছিলো আফসিন।

ঐ রাতে আসলিহান আফসিনের রোমে চুপেচুপে এসে কাচুমাচু করে বলেছিলে – ভাইয়া আমি ভুল করেছি। তুই আমাকে ক্ষমা করে দে। আমার বেশ রাগ হয়েছিলো তাই…।

আমি তোকে আর মাকে ছেড়ে কোথাও যেতে চাই না। তুই কি আমাকে তোর কাছে রাখবি না?

আফসিন বলেছিলো – ঠিকাছে। যদি আজকের মতো আর কোনোদিন এমন পাগলামি না করিস তবে রাখবো।

শিক্ষনীয় গল্প – হারকিউলিস

শিক্ষনীয় গল্প – কিন্তু আফসিন তার কথা রাখতে পারেনি। আসলিহানকে তার কাছে রাখতে পারেনি। এই পৃথিবী যে শতো বাধায় বাঁধা। শতো কাঁটায় ঠাসা।

তার অলিগলি বিষাক্ত ক্যাকটাসে ছাওয়া। এখানে কি সব কথা রাখা সম্ভব?

দেড়মাস আগে আসলিহান গুম হয়ে যায় তাদের বেলকনি থেকে। পাঁচদিন পর তার লাশ পাওয়া যায় একটি ডোবার পাশে। দেহ ক্ষত বিক্ষত। চুল এলোমেলো। ধর্ষণের আলামত সুস্পষ্ট।

গতরাতে আসলিহানকে স্বপ্নে দেখেছে আফসিন। তার গায়ে একটি সবুজ লেহেঙ্গা। আফসিনের কাছে এমনি একটি লেহেঙ্গার বায়না করেছিলো আসলিহান।

সামনের ঈদে কিনে দিবে বলে ওয়াদাও করেছিলো সে। কিন্তু তা আর কেনার প্রয়োজন হয়নি। অপারে নিয়াতম হিসেবে সবুজ লেহেঙ্গা পেয়ে গেছে আসলিহান।

আজ ঈদের জামাত শেষে আসলিহানের কবর জিয়ারতে এসেছে আফসিন।

আনলিহান! আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ তোকে শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন। তুই মজলুম। পৃথিবীতে সর্বনিকৃষ্টতম আচরণ হয়েছে তোর সাথে। পৃথিবীটা এমনই।

এখানে যেমনি মানুষের প্রধান বন্ধু মানুষ তেমনি মানুষের প্রধাান শত্রুও মানুষ। তারচে বরং তুই ওখানেই ভালো আছিস। ওখানে কারো শত্রু কেউ নেই।

আমি আমরা সকলেই যে এই পথের যাত্রী। পার্থিব এ জীবনের পরে মাটিই তো আমাদের শেষ ঠিকানা।

আমি আফসিনের কাঁধে হাত রাখলে সে আমার দিকে ফিরে।

– ওরা সকলে অপেক্ষা করছে। চল যাওয়া যাক – বললাম আফসিনকে।
– আমার একটি বিশেষ কাজ আছে। তাদেরকে বলে দিস আমি আসছি না। কথাটি বলে আফসিন চলতে লাগে। যেতে থাকে দূর থেকে দূরে।

শিক্ষনীয় গল্প – হারকিউলিস, দ্বিতীয় পর্ব

আমি চলে আসি রাশিদের বাড়ি। রাশিদ ইরানে একটি ইউনিভার্সিটিতে রসায়ন নিয়ে পড়ছে। ঈদ কাটাতে দেশে ফিরেছে রমজানের শুরুর দিকে।

সালমান ও ফারহান আমার আগে সেখানে পৌঁছে গেছে। ফারহান আমাকে প্রশ্ন করে – কী রে, আফসিন কোথায়?

– তার বিশেষ কাজ আছে।
– ঈদের দিনে কী এমন বিশেষ কাজ?
– সেটা আমি জানি না। তবে আমি জানি আফসিন দিনদিন অন্যকিছু একটা হয়ে যাচ্ছে। আসলিহানের সুষ্ঠু বিচার না পেলে কি করে বসে আল্লাহ মালুম।

– সুষ্ঠু বিচার নেই বলেই তো ধর্ষণের তালিকায় বাংলাদেশ দিনদিন উপরে উঠছে।
ধর্ষণ বাড়ার পেছনে মেয়েদের হিজাবহীন চলাফেরাও দায়িত্ব বললো সালমান।

ফারহান একটি তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো – বুঝি শুরু হলো তোর নসিহত। যদি পোশাকই ধর্ষণের কারণ হয় তাহলে আসলিহান কেন ধর্ষিতা হলো?

সে তো হিজাব করতো। তাছাড়া তাকে তাদের বেলকনি থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিলো। তাহলে ধর্ষণের কারণটা কী?

– সেটা নারীর স্বাধীনতা, ক্ষমতায়ণ ও আইন প্রয়োগের অভাব।

– আচ্ছা তুই কী হ্যাশ-ট্যাগ, মি-টু আন্দোলনের কথা জানিস?

– হুম।
– সেখানে এঞ্জ্যালা জোলিসহ হলিউড ভলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী ও বিশ্বের অনেক ক্ষমতাবান নারীরা নিজেদের সাথে ঘটা যৌনহেন্থার কথা শেয়ার করেছেন।

এমন কি খোদ ইউরোপিয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠেছিলো ওখানে না কি যৌন আকাঙক্ষা চরিতার্থের লক্ষ্যেই চাকুরি দেওয়া হয় অল্প বয়সী মেয়েদের।

যে ইউরোপিয় ইউনিয়নকে ফলো করে পারিবারিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভীত গড়তে আমাদের বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী এক পায়ে খাড়া।

তোর দাবি সত্য হলে স্বাধীনতা আর ক্ষমতার শীর্ষচূড়ায় অবস্থানরত সেই সব নারী ধর্ষিতা হতো না।

বিশ্বব্যাপী আইন সাপলাইকারী প্রষ্ঠিান ইউরোপিয় ইউনিয়নের বিরোদ্ধেও অভিযোগ ওঠতো না।

তখন ফারহানের ক্রমশ রাগ বাড়ছিলো। এটা তার অভ্যাস। যখন তর্কে যুক্তিতে হেরে যেতে বসে তখন তার রাগ বাড়তে থাকে।

হারকিউলিস – তৃতীয় পর্ব

আমি আমাদের সামনে রাখা একটি ক্যালেন্ডারেরর দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম। যার নিচের অংশে দিন তারিখ আর উপরের অংশে একটা মেয়ের ছবি।

আমি বললাম আজকাল ক্যালেন্ডার সাবান তেলসহ প্রায় সকল মুদিপণ্য এমনকি চকলেটের কাভারে নারীর ছবি ছাপা হচ্ছে।

এসব পণ্যের সাথে নারীর সৌন্দর্যটাও পণ্য হিসাবে বিক্রি হচ্ছে। আর এর বিনিময়ে ওই নারী মহানন্দে কিছু টাকা গ্রহণ করছে। মডেল হচ্ছে। ক্যারিয়ার স্বার্থক ভাবছে।

ফারহান চোখ তুলে কিছু বলতে গিয়ে আটকে যায়। বুঝলাম সে এখানে আপত্তি করতে চায়। আমি বললাম ফারহান তুই সহজ করে ক্রয় বিক্রয়ের একটা সংজ্ঞা দে।

– ক্রয় বিক্রয় হলো ক্রেতা বিক্রেতার সম্মতিতে মাল-পণ্যর বিনিময়ে মালের আদান প্রদান।
– তাহলে দেহ ব্যবসার নামে যখন শরীর বিক্রি হয় সেখানে পণ্য হচ্ছে দেহ?
– হুম।
– দেহ যখন পণ্য হচ্ছে তাহলে যেভাবেই দেহের বিনিময়ে টাকা আসবে সেটা দেহ ব্যবসা হবে।

চাই রূপ সৌন্দর্য পরিবেশন করে হোক বা শরীর ভোগ করতে দিয়ে হোক। সুতরাং মডেল স্টার বেশ্যা ইত্যাদি নাম গিয়ে একটি নামে একত্রিত হচ্ছে। সেটা হলো দেহ ব্যবসায়ি?

এই বিজ্ঞাপন ভিত্তিক দেহ ব্যবসা জনমানুষের মনে খুব সু²ভাবে রোপণ করে দিচ্ছে নারীকে পণ্য বা ভোগ্যবস্তু ভাবার বিভৎস চেতনা।

ফারহান হ্যা সূচক মাথা নাড়লো।

এভাবে সারাবিশ্বে সিনেমা নাকট গল্প উপন্যাস কবিতা সবকিছুতে নারীকে উপস্থাপন করা হচ্ছে একটি ভোগ্যপণ্য হিসেবে।

অতঃপর একটি শিশু এগুলো দেখে দেখে, এগুলো পড়ে পড়ে বড় হচ্ছে। তার সাথে মনের মধ্যে বড় হচ্ছে নারী দেহ ভোগের বা ধর্ষণের একটি নিকৃষ্ট আকাঙ্খা।

তোমারা যদি ধর্ষণের কারণ চিহ্নিত করতে চাও তাহলে ভাবতে হবে একজন ধর্ষকের মন নিয়ে। কেন এবং কোথায় থেকে তার মনে এই চেতনা এলো।

একজন জলজ্যান্ত মানুষকে কেন সে ভোগবস্তু ভাবতে গেলো। অশালীন পোশাকসহ যৌনতার প্রতি আকর্ষণ করে এমন সবকিছু নিয়ে।

আইন ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। আরো বহুকিছু নিয়ে। বিশ্বের যে সব দেশ এই নীতিগুলো ফলো করছে সে সব দেশ ধর্ষণের তালিকায় অনেক নিম্নে আছে।

হারকিউলিস, চতুর্থ পর্ব

রাশের বললো, হু ইরানে ধর্ষণের খবর আমি শেষ কবে শুনেছিলাম মনেই নেই।

নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশাকে কি ধর্ষণের জন্য দায়ি করা যায়? প্রশ্ন করলো সালমান।

ফারহান চোখ ঘুরিয়ে বললো – এটা হবে কেন? এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও নেই।

একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে – বললো রাশেদ। আমারা গুরুত্ব দিয়ে রাশেদের কথা শুনতে লাগলাম।

১৭৩৩ সালে চার্লস ফ্রাঁসোয়া দুফে নামে এক ফরাসি গবেষক দেখলেন আকর্ষণেরর শক্তি আছে দু’ধরণের।

তিনি দেখলেন একটি কাচের দণ্ড আর একটি শীলমোহর করার গালারকে রেশম দিয়ে ঘষলে দুটিতেই বিদ্যুৎ জন্মায়।

কাচের দণ্ড ছোট ছোট জিনিষকে আকর্ষণ করে আবার গলারও তেমনি আকর্ষণ করে।

মনে করা যাক বিদ্যুৎযুক্ত দুটি কাচের দণ্ড রেশম দিয়ে কাছাকাছি ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। দেখা যাবে তারা পরস্পর দূরে সরে গেছে।

অর্থ্যাৎ তারা একে অন্যকে বিকর্ষণ করেছে। কিন্তু যদি একটি কাচের দন্ড আর একটি গালারকে কাছাকাছি ঝুলিয়ে দেওয়া হয় দেখা যাবে তারা পরস্পর কাছে চলে এসেছে। অর্থাৎ তারা একে অন্যকে আকর্ষণ করেছে।

এই তত্ত্বের নিরিখে আমরা দেখতে পাই পদার্থের মধ্যে তার সামজাতীয় জিনিষকে বিকর্ষণ এবং বিপরীত জাতের জিনিষকে আকর্ষণ করার জন্মগত ক্ষমতা রয়েছে।

এভাবে মানুষ মৌলিকভাবে নারী ও পুরুষ দু’টি বিপরীত জাতে বিভাজ্য। তাই বিজ্ঞানের এই তত্ত্বের পুরুষ নারী তারা একে অন্যকে আকর্ষণ করবে। যা হতে পারে ধর্ষণের কারণ।

রাশিদের কথাগুলো সবাই নীরবে শুনছিলাম। এই নীরবতা ভেঙে ফারহান বললো বুঝেছি ভাই।

কিন্তু এখানে একটি প্রশ্ন হলো পদার্থের ব্যপারে প্রতিষ্ঠিত একটি তত্ত¡ মানুষের উপর প্রয়োগ করা কীভাবে শুদ্ধ হবে?

– পদার্থের রূপান্তরিত প্রক্রিয়া থেকেই এসেছে বর্তমান মানুষের রূপ। তাছাড়া প্রাকৃতিক নিয়মে মানুষসহ সকল জীব তার বিপরীত জাতকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা খুবই প্রবলভাবে বিরাজমান।

– আর বলতে হবে না। ধর্ষণের কারণ হিসাবে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশাকেও দায়ি করতে আমার কোন আপত্তি নেই।
রাশিদের মা আমাদের জন্য চা নাস্তা পাঠিয়েছেন। আমারা চায়ের সাথে দেশ-বিদেশের নানান কথাবার্তা চিবাচ্ছি।

আমার মোবাইলে একটি ফোন আসে। ওপাশ থেকে কেউ একজন বলে আফসিনকে এরেস্ট করা হয়েছে। আমরা হুড়োহুড়ি করে বাহিরে বের হই। দৌড়োই আফসিনের দিকে।

শিক্ষনীয় গল্প – হারকিউলিস, পঞ্চম পর্ব

আমরা বাজার পয়েন্টে এসে দেখি মানুষের ভিড়ে আফসিনকে ধরে রেখেছে কয়েকজন পুলিশ।

তার হাতে দণ্ড। শার্টে রক্তের দাগ। পাশে দু’টি লাশ। উভয় লাশের গলায় ঝুলানো একটি করে চিরকোট।

‘আমি একজন ধর্ষণকারী। একজন হত্যাকারী। এমন কাজের পরিণতি এটাই হওয়া উচিত, আমি হারকিউলিস।’

আফসিন তার বোনের ধর্ষকদের বিচারের কাঠগড়ায় আনতে চেয়েছিলো। কিন্তু সমস্যা ছিলো তিনজন অভিযুক্ত আসামির মধ্যে একজন ছিলো স্থানীয় এমপি সাহেবের দুঃসম্পর্কে ভাগিনা – রমিজ।

ওই এমপি সাহেব নাকি থানায় বলে দিয়েছিলেন তার ভাগিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। মামলা দিয়ে মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তার ভাগিনার বিরুদ্ধে যেন কোনো অভিযোগ গ্রহণ করা না হয়। এ জন্য ওসি সাহেব
প্রথমে আসলিহানের মামলা থেকে রমিজের নাম কেটে দিতে চাইলেন।

পরে আফসিনের পিড়াপিড়িতে রমিজকেও আসামি করা হলো ঠিক কিন্তু মামলার কাজ থেমে গেলো।

আফসিন থানায় যায়-আসে। ওসি সাহেব বলতে থাকেন কাজ হচ্ছে-হবে। শেষদিকে আফসিনের সাথে থানার লোকেরা বাজে আচরণ করতে শুরু করে।

আসলিহান হত্যার দেড়মাস কেটে যায়। একজন আসামিও গ্রেফতার হয়নি। বরং অভিযুক্ত আসামিরা বুক ফুলিয়ে হাঁটতে থাকে জনপদে।

রমিজ আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পথঘাটে আফসিনকে পেলে চোখ টিপ্পনী দেয়। একদিন রমিজ বলেই ফেলে – কিরে বেটা বোনের মামলা কতো দূর নিলি।

তোর বোনকে তো আমি প্রপোজ করেছিলাম। ভালোবেসে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তোর বোন আমাকে যে অপমান করেছিলো তা আজও আমাকে পীড়া দেয়।

এখন তুইও আমাকে মামলায় ঢুকিয়ে দিলি। আচ্ছা বলতো যার জন্য মন থেকে ভালোবাসা জন্ম নেয় তাকে কি হত্যা করা যায়?

আফসিনকে থানায় নেওয়া হয়। পরদিন রমিজ ও তার বন্ধুর হত্যা মামলা দেখিয়ে পাঠানো হয় হাজতে।

শিক্ষনীয় গল্প – হারকিউলিস – ষষ্ট পর্ব

শিক্ষনীয় গল্প – আফসিনের পৃথিবীতে আসলিহান আর তার মা ছাড়া কেবল আমরা কয়েক বন্ধু ছিলাম তার আপনজন। শৈশবে বাবা হারানো ছেলেটি বড় হয়েছিলো বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে।

কিন্তু এবারের ঘাত থেকে হয়তো তাকে আর রক্ষা করা গেলো না।

আফসিনকে হাজতে পাঠানোর বিশ দিনপর আমাদের গ্রামে আরেকজন মেয়ে ধর্ষিতা হয়।

তবে তাকে হত্যা করার আগেই তার পরিবার গিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। অতপর ওই মেয়ের
করা মামলায় আটক করা হয় একজন ধর্ষককে।

রিমান্ডের পর জানা যায় সে আসলিহানকেও ধর্ষণ করে হত্যা করছিলো। একথা প্রকাশের পর এমপি সাহেব ও রমিজের আত্মীয়-স্বজনের ক্ষোভ আরো বাড়ে আফসিনের উপর।

তারা দ্রুত আফসিনের ফাঁসির ব্যবস্থা করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। নয় মাসের মাথায় রমিজ ও তার বন্ধুকে হত্যার দায়ে আফসিনের ফাঁসির আদেশ হয়।

এর কিছুদিন পর আদেশ কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলের ফটক থেকে তার লাশ গ্রহণ করতে নোটিশ আসে আফসিনের ঘরে।

আফসিনের মা আমি ও সালমান একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাই কারা ফটকে। আফসিনের সাথে শেষ দেখা করতে আমরা প্রবেশ করি ভেতরে।

সে দাঁড়িয়ে আছে গাছের মতো। তার স্তব্ধ চোখ মুখ থেকে বেরুচ্ছে পৃথিবীর প্রতি নীরব ঘৃণা।

আফসিনেন মা বললেন – বাবা তুই কি সত্যি রমিজ ও তার বন্ধুকে খুন করেছিলি?

– মা আমি ঈদের রাতে আসলিহানকে স্বপ্নে দেখার পর খুব অস্থির হয়ে ওঠেছিলাম।

পরদিন ঈদের নামাজের পর কোথায় থেকে একটি চিবকোট আমার কোলে এসে পড়ে।

সেখানে লিখা ছিলো তোমার বোনের ধর্ষক ও হত্যাকারীকে আজ দুপুরে বাজারের পেছনে হত্যা করা হবে। তাই দুপুরের দিকে আমি ওখানে যাই।

গিয়ে দেখি রমিজ ও তার বন্ধুর রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। আমি ঘটনা কিছুই বুঝে ওঠতে পারিনি।

রমিজের শরীরে হাত দিই। এতে তার শরীর থেকে কিছু রক্ত আমার হাতে ও কাপড়ে লাগে যায় এবং ফিঙ্গার ছাপ মিশে যায় রমিজের শরীরে।

আরো পড়ুন –

শিক্ষনীয় গল্প – হারকিউলিস, শেষ পর্ব

ততোক্ষণে মানুষ এসে আমাকে ঘিরে ধরে। ভাবতে থাকে আমিই খুনি।

– বাবা তুই এ কথা আদালতে বলিসনি কেন?

– বলেছি কিন্তু এটাতো সত্য রমিজের শরীরে সর্বশেষ আমার ফিঙ্গার ছাপ মিশেছিলো এবং তার রক্তও আমার গায়ে পাওয়া গিয়েছিলো।

দুনিয়ার আদালতে ফাঁসি হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।

সালমান বললো তাহলে ওদের আসল হত্যাকারী কে?
– হারকিউলিস।

প্রহরী আমাদের বের হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

আফসিন আমার হাত ধরে বলে আমার মাকে তুই মা বলে ডাকিস। সকল পরিস্থিতিতে দেখে রাখিস।

আমি বললাম – ইনশাআল্লাহ!

আমরা বের হয়ে আসি। আফসিন টলমল চোখে তাকিয়ে থাকে। দরজার ওপাশে আফসিনের কণ্ঠ আসে – মা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

ফটকের সামনে এসে আমরা অপেক্ষা করতে লাগি। সালমান বলে হারকিউলিসটা আসলে
কে? যে নিরপরাধ আফসিনকে ফাঁসির কাষ্ঠে পৌঁছোয় দিলো?

আমি বললাম – মানুষ আইনের শাসন থেকে নিরাশ হয়ে গেলে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে চায়।

হারকিউলিস ওরকমই একটা কিছু। কিন্তু ভুল পথে হেঁটে কখনই মেওয়া বাগানে পৌঁছা যায় না।

ফলে তাদের নামও লিখিত হয় ইতিহাসের কলঙ্কময় পাতায়। ভোর ছয়টায় আফসিনের লাশ আমাদের

হাতে দেওয়া হয়। আসলিহানের কবরের পাশে আমরা তাকে দাফন করি।

পৃথিবীর নিয়মে পৃথিবীতে আলো ওঠে। পাখি ডাকে। হাওয়া চলে। ঈদ আসে। ঈদ যায়।

কেবল আসে না আসলিহান। আসে না আফসিন। কেনা হয় না ঈদের পোশাক সবুজ লেহেঙ্গা।

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment