ইসলামিক গল্প, জীবন গল্প, শিক্ষনীয় গল্প

শিক্ষনীয় ইসলামিক গল্প – বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া কয়েকটি গল্প

/

by Shah suhail

/

No Comments

শিক্ষনীয় গল্প – লোকমান হাকিমের অমূল্য উপদেশ

বহু বছর আগে লুকমান নামে এক ব্যক্তি বাস করতেন। তিনি নবী ছিলেন না। কিন্তু তিনি ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী।

তিনি একজন আফ্রিকান ছিলেন। তাকে ক্রীতদাস হিসাবে ধরে অন্য দেশে বিক্রি করা হয়েছিল।

লুকমান এতই জ্ঞানী ও সম্মানিত ছিলেন যে, পবিত্র কুরআনে তার নামে একটি সূরার নাম করণ করা হয়েছে।

তিনি তার সন্তানদের সব সয়ম ভালো উপদেশ দিতেন।

উপদেশগুলো আজও পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য সমানভাবে মঙ্গলজনক ও উপকারী।

তার সেসব অমূল্য উপদেশ থেকে একটি নিচে তুলে ধরছি।

একবার লুকমান তার ছেলেকে বললেন –

‘হে আমার বৎস, মানুষের সন্তুষ্টি লাভের আশা করো না। এতে তোমার সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

লোকে যা বলে সেটায় মনোযোগ দিও না। রবং তুমি নিজ আত্মাকে বলো সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টি খুঁজতে।’

লুকমান তার ছেলেকে এই উপদেশ দিয়েই কান্ত হয়নি। তিনি চেয়েছিলেন এই শিক্ষা সর্বকালের জন্য স্মরণীয় করে রাখতে। তাই তিনি একটা উপায় খুঁজলেন।

তিনি তার ছেলেকে গাধায় চড়তে বললেন। ছেলে তার কথা মতো গাধায় চড়ে বসলো। তিনিও তার পিছনে পিছনে হেঁটে আসতে লাগলেন।

তারা এভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলো। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর তাদের সাথে একদল লোকের সাক্ষাৎ ঘটলো।

ছেলেকে গাধার উপর দেখে তারা বলল,

‘কী অসভ্য ছেলে। কী খারাপ আচরণ করছে দেখো। বৃদ্ধ বাবা পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন। আর ছেলে কতো আরামে গাধার পিঠে চড়েছে। পিতার প্রতি সম্মান দেখানোর মতো সামান্য শিক্ষাবোধও তার নেই।’

বাবা ও ছেলে উভয়ে একথা শুনলেন। অতপর ছেলে গাধা থেকে নেমে এলো। এবার লোকমান পশুর উপর চড়ে বসলেন।

শিক্ষনীয় গল্প – লোকমান হাকিমের উপদেশ ২য় পর্ব

কিছুক্ষণ পর তারা আরেকদল লোকের দেখা পেলেন। বাবাকে গাধার পিঠে চড়তে দেখে একজন লোক বলে উঠলো –

‘ওহে বৃদ্ধ, এভাবে ছেলেকে তুমি ভালো শিক্ষা দিতে পারবে না। ছেলেকে প্রখর রোদে হাঁটাচ্ছো। আর তুমি গাধার উপরে আরাম করে বসে যাচ্ছো।”

লোকদের কথায় লোকমান গুরুত্ব দিলেন। তিনি গাধা থেকে নেমে এলেন। এবার বাবা-ছেলে দুজনেই পায়ে হেঁটে চলতে লাগলেন।

গাধাটা খালি পিঠে তাদের সামন দিয়ে হাঁটছে। এভাবে তারা একটু এগিয়ে গেলো। কিছুদূর যাওয়ার পর একদল লোক তাদের দেখে বলল,

  • আপনারি কতো বোকা? একটা গাধার পিছু পিছু হাঁটছেন। আপনারা এটায় আরোহণ করছেন না কেন?

লোকমান হাকিম এইবার তার ছেলেকে নিয়ে গাধায় চড়ে বসলে। তারা দুজনেই গাধায় চড়ে এগিয়ে যাচ্ছিলো।

পথে তারা একটি নদী পেরিয়ে এলো। সেখানে কয়েকজন লোক বসা ছিলো।

তারা লুকমান ও তার ছেলেকে গাধার পিঠে চড়তে দেখে বলল, “তোমাদের দুজন লোক একটি জীর্ণ গাধার পিঠে চড়ে আছো।

তোমরা খুবই নির্দয় ও নিষ্ঠুর। ছোট্ট প্রাণীটি কী করো আপনাদের সমস্ত ভার বহন করতে পারে?

তাদের এই উপদেশ গ্রহণ করে লুকমান হাকিম ও তার ছেলে গাধা থেকে নামলেন। ওরা একটু দূরে চলে গেলো। খুব আদরের সাথে লুকমান তার ছেলেকে বললেন,

“মানুষ যা বলেছে তা তুমি শুনেছো এবং দেখেছো। এটি তোমাকে এতক্ষণে নিশ্চয়ই আশ্বস্ত করেছে যে, তুমি যাই কর না কেন বা যে পথেই চলো না কেন, কেউ সকল মানুষকে খুশি করতে পারবে না।

তিনি প্রবাহিত নদীর দিকে ইঙ্গিত করে করলেন,

  • কেউ নদীর ওপারে একটি প্রাচীর তৈরি করে নিলে পানির প্রবাহ বন্ধ হবে। কিন্তু সমালোচনা থেকে মানুষের মুখ বন্ধ করা সম্ভব নয়।

শিক্ষা: আমাদের বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা একই রকম। জিভের কোনো ছাড় নেই। কোনো কিছু না জেনে কোনো কিছু চিন্তা না করেও কথা বলতে পারে।

তাই প্রতিটি মানুষের উচিত নিজেকে অন্যের সমালোচনা থেকে বিরত রাখা। আর যারা সমালোচিত হচ্ছি তাদের উচিত নিজ কাজগুলো নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা।

যদি মন হয় আমার কাজগুলো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাহলে মানুষ কে কি বলছে সে দিকে ফিরে তাকানো মানে নিজেকে পিছনে নিয়ে যাওয়া।

শিক্ষনীয় গল্প – মুসা নবীর বিনয়

আল্লাহ তায়ালা হযরত মুসা – আলাইহিস সালাম – একবার বললেন, “পরের বার যখন তুমি আমার সাথে কথা বলতে আসবে, তখন তোমার থেকে নিকৃষ্ট কাউকে সাথে নিয়ে আসবে।”

মুসা – আলাইহিস সালাম – এমন একজন ব্যক্তির সন্ধানে বের হয়েছিলেন যিনি তাঁর থেকে নিকৃষ্ট কিন্তু কাউকে খুঁজে বের করতে পারলেন না।

কারণ তিনি যে ব্যক্তির নিটকই যাচ্ছিলেন সেই ব্যক্তি অপেক্ষা নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করার সাহস তার ছিল না।

তারপর তিনি প্রাণীদের মধ্যে থেকে তার থেকে একটি নিকৃষ্ট প্রাণী খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নিয়ে।
তার চোখ একটি রোগাক্রান্ত কুকুরের উপর পড়ে।

তিনি সেই কুকুরটি সাথে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি কুকুরের গলায় একটি দড়ি বেঁধে তাকে টেনেটেনে নিয়ে যেতে লাগলেন।

কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরে তিনি তার কর্মের জন্য অনুতপ্ত হন। কুকুরটিকে ছেড়ে দেন। আল্লাহর সাথে কথোপকথনের জন্য তিনি খালি হাতে ফিরে আসেন।

আল্লাহ মুসাকে বললেন –

‘আমার হুকুম অনুযায়ী তুমি কাউকে সাথে নিয়ে আসার কথা ছিলো, তুমি সেটা করলে না কেন?

মুসা – আলাইহিস সালাম – বললেন, ‘হে প্রভু, আমি এমন কাউকে খুঁজে পাইনি যে আমার চেয়ে নিকৃষ্ট হতে পারে।

আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তর এল: “আমার ক্ষমতা ও মহিমার কসম, আপনি যদি কাউকে নিজের থেকে নিকৃষ্ট মনে করতেন,

তবে আমি অবশ্যই আপনার নাম নবীদের তালিকা থেকে মুছে দিতাম এবং আপনাকে নবুওয়াতের পদ থেকে অব্যাহতি দিতাম।

শিক্ষা: এই গল্পটি আমাদের সেই মহামূল্যবান শিক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পরম নম্রতা ও নিজেকে ছোট ভাবার মানসিতা না থাকলে –

নবীরাও (যারা আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের মূর্ত প্রতীক ছিলেন) তারাও হারিয়ে যেতেন।

বিশেষ করে যখন আমরা নিজেরা নিজেদের বড় ভাবার মহড়া খুলে বসেছি সেই কঠিন সময়ে এই গল্পটি থেকে আমরা নিজেদের অন্য ছোট ভাবার শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি।

শিক্ষনীয় গল্প – বাদশা হারুনুর রশিদ ও একটি চাতক পাখি

বাদশাহ হারুনুর রশিদের কাছে একটি চাতক পাখি বিক্রেতা তার পাখিটির জন্য বাজারমূল্যের চেয়েও অনেক বেশি দাম চেয়ে বসলো।

বাদশাহ জিজ্ঞেস করলেন পাখিটির এত দাম কেন? অথচ তার একটি পা ভাঙা।

লোকটি বললো জাহাপানা: দেখতে সাধারণ হলেও এই পাখিটির বিশেষত্ব হলো – আমি শিকারে গলে তাকে সঙ্গে করে করে নিয়ে যাই।

আমার পাতানো ফাদের সাথে এই চাতক পাখিকেও বেধে রাখি। সে তখন অত্যাশ্চর্য এক আওয়াজ দিয়ে অন্য পাখিদের ডাকতে থাকে।

তার ডাক শুনে ঝাকে ঝাকে পাখিরা এসে জড়ো হয়। আর আমি একসাথে সব পাখিকে শিকার করি। বলা যায় এই পাখিটি আমার শিকারের প্রধান ফাদ ।

বাদশাহ এই কথাগুলো শুনে পাখিটি শিকারীর চাহিদা অনুযায়ী চড়া দাম দিয়ো কিনে সাথে সাথে জবাই করে ফেললেন।

শিকারী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, জাহাপনা, আপনি অনেক দামে কেনা পাখিটি এভাবে জবাই করে দিলেন?

তখন বাদশাহ হারুনুর রশিদ সে সময় একটা মহামূল্যবান কথা বলেছিলেন, যা ইতিহাসে আজও অমর হয়ে আছে।

তিনি বললেন, ‘যে অন্য জাতির দালালি করার জন্য তার স্বজাতির সাথে এমন গাদ্দারি করে তার এই পরিণতি এরকম হওয়া উচিত।’

গল্প থেকে শিক্ষা: আমাদের মধ্যে এমন অনেক লোক আছে যারা ভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর দালালি করার জন্য নিজ জাতি ও দেশের সাথে গাদ্দারি করে।

তারা পরিণতি ঐ চাতক পাখির মতো গাদ্দার। তাদের পরিণতিও ঐ পাখির মতো হওয়া কাম্য।

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment