গল্প, ছোট গল্প, শিক্ষনীয় গল্প

শিক্ষনীয় মজার গল্প – সেরা তিনটি শিক্ষনীয় হাসির গল্প

/

by Shah suhail

/

No Comments

শিক্ষনীয় মজার গল্প – সিংহ শিয়াল ও গাধার গল্প

একটি সিংহ একটি শিয়ালকে ধরে মেরে ফেলার হুমকি দিলো। শিয়ালটি কাকুতি মিনতি করে সিংহকে বললো – হুজুর এবারের মতো আমাকে ক্ষমা করে দিন। 

আমি সারা জীবন আপনার সেবায় নিয়োজিত থাকবো। আপনার সকল কাজ করে দিবো। কোনো কাজে গাফলতি করবো না।

শেয়ালের কথা শুনে সিংহ শেয়ালটিকে নিজের সেবক হিসাবে রাখার কথা চিন্তা করে মুক্তি দিয়ে দিলো। 

এরপর সিংহটি শেয়ালকে নির্দেশ দিয়ে বললো – যাও একটি প্রাণী শিকার করে আমার জন্য নিয়ে এসো। 

সিংহের কথা মতো শেয়ালটি শিকারে বেরিয়ে গেলো। কিন্তু শিয়ালটি কোথায়ও কোনো শিকার পাচ্ছিলো না। হঠাৎ শিয়ালের সামনে একটি গাধা এসে হাজির হলো।

শেয়ালটি গাধাকে দেখে বললো ‘ ওহো গাধা ভাই সকাল থেকে তোমাকেই খুঁজছি।

বনের রাজা সিংহ  আপনার জন্য একটি পুরুষ্কার নিয়ে বসে আছেন।

আমাকে পাঠিয়েছেন আপনাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যেতে। যাতে আপনি আপনার পুরুষ্কারটি নিজ হাতে গ্রহণ করতে পারেন। 

শিয়ালের কথা শুনে গাধা মহা খুশি হয়ে শেয়ালের পেছন পেছন সিংহের কাছে যেতে লাগলো।

সিংহের কাছে যেতেই সিংহ ঝাপট মেরে গাধাকে ধরতে চাইলে গাধা দৌঁড়ে পালালো।

এবার সিংহ শিয়ালের প্রতি অগ্নি ক্ষুদ্ধ। কিরে এটা কেমন শিকার নিয়ে আসলি। বেয়াদব! এবার তোকে শেষ সুযোগ দিচ্ছি। তুই গাধাকে ফিরিয়ে নিয়ে আয়। যদি আবার ভুল করিস তবে তুই শেষ।

শেয়াল একার গাধার কাছে গিয়ে বললো। গাধা ভাই সিংহ মামা আপনার সাথে কোলাকোলি করতে চাইছিলো। কিন্তু আপনি দৌঁড়ে পালালেন কেন।

গাধা এটা শুনে বললো – ওহো তাই না কি! আমি তো ভাবছিলাম সিংহ বুঝি আমাকে খেয়ে ফেলতে এমনটা করছে।

আচ্ছা ঠিক আছে এবার চলো তাহলে। এরপর আবার সিংহের কাছে চলে গেলো।

এবার সিংহ ইচ্ছামতো গাধাকে ধরে মাটিতে শুয়িয়ে মেরে ফললো। 

মারার পর শিয়ালকে বললো আমি ফিরে আসার আগ পর্যন্ত তুই ওটকে পাহারা দিবি। শেয়াল বললো জি হুজুর ঠিক আছে।

সিংহ শিয়াল ও গাধার গল্প – দ্বিতীয় অংশ

সিংহ চলে যাওয়ার পর শেয়াল বসে বসে চিন্তু করলো এই গাধার শরীর থেকে রক্তগুলো খেয়ে ফেললে কেমন হয়।

ভাবতে ভাবতে ঠিক করলো যাক রক্তগুলো খেয়েই ফেলি। সিংহ আসলে তাকে কোনো একটা হেনতেন কিছু একটা বলে বুঝ দেওয়া যাবে।

রক্ত খাওয়ার পর চিন্তু করলো গাধার মাথার মগজও খেয়ে ফেললেও অসুবিধা নেই। তাই গাধার মাথার মগজও শেয়াল খেয়ে ফেললো।

সিংহ এসে দেখে গাধার শরীরে রক্ত নেই। মাথায় মগজ নেই। সিংহ তো এবার শিয়ালকে থাপ্পড় মেরে ধরে বলে – বেয়াদব লোভী – এটা কি করত?গাধার রক্ত ও মাথার মগজ খাইছত কেন? 

শেয়াল বলে জাহাপানা আমি তো কিছুই করি নি। ঐ গাধার শরীরে রক্ত আসবে কোথায় থেকে? আপনার সামনে আসার পরও কি গাধার শরীরে রক্ত বাকি থাকে? 

আপনার ভয়ে তার শরীরের রক্ত পানি হয়ে গেছে। তাই আপনি রক্ত দেখতে পাচ্ছেন না।

আর আপনার ভয়ে যদি গাধার শরীরের রক্ত পানিই না হয় তবে আপনি কেমন সিংহ হলেন।

সিংহ মনে মনে চিন্তা করে দেখে শেয়ালের কথাই তো ঠিক।

একটা গাধার শরীরের রক্ত যদি আমার ভয়ে পানি না হয় তাহলে আর আমি কেমন বনের রাজা হলাম। 

এরপর সিংহ বলে এবার বলো গাধার মাথার মগজ কোথায়? মগজ তো তোই নিশ্চিত খেয়ে ফেলছিস।

শেয়াল বলে – আপনি যে গাধার মাথায় মগজ খুঁজছেন। তার মাথায় মগজ আসবে কোথায় থেকে?

ওর মাথায় মগজ নেই বলেই তো আপনার সামনে এসে হাজির হইসে। কারো মাথায় মগজ থাকলে কি আর সিংহের সামনে আসে? 

সিংহ তো চিন্তা করে দেখে শেয়ালের এই কথাও ঠিক। তা না হলে একবার আমার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবার আমার কাছে কেন হাজির হবে?

শিক্ষা – (১) সমাজে বুদ্ধির তুলনা হয় না। বুদ্ধি থাকলে সিংহের মাথায় লবণ রেখে রড়ই খাওয়া যায়। 

শিক্ষা – (২) কিছু মানুষ আছে যাদের একটু গুণকীর্তন করে নিলে তারা আত্মভোলা হয়ে ওঠে। তখন তাদের কাছে অযৌক্তিক কথাগুলোও পরম সত্য ও সঠিক মনে হয়। 

শিক্ষনীয় গল্প – বাঘ ও গাধার তর্ক

শিক্ষনীয় মজার গল্প – একদা বাঘ আর গাধার মধ্যে তর্ক শুরু হলো। গাধা বললো ঘাসের রঙ নীল। আর বাঘ বললো – না, ঘাসের রঙ সবুজ।

কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজন তুমুল তর্কে লিপ্ত হলো। এরপর তারা বনের রাজা সিংহের দরবারে বিচার নিয়ে উপস্থিত হলো।

রাজর দরবারে গিয়ে সিংহের কাছে পৌঁছানোর আগেই গাধা ডাক দিয়ে বললো — মহারাজ, আপনিই বলুন ঘাসের রং নীল কি না?

সিংহ উত্তর দিলো – হ্যাঁ, ঠিক আছে ঘাসের রং নীল।

গাধা তাড়াতাড়ি সিংহের কাছে পৌঁছালো এবং বললো —বাঘ আমার কথা শুনছে না। সে আমার সাথে তর্ক করে আমাকে বিরক্ত করছে। তাকে শাস্তি দিন।

সিংহ তখন নির্দেশ দিলো – বাঘ ৫ বছর কারো সাথে কথা বলতে পারবে না। তাকে এই দীর্ঘ সময় মৌন থাকার শাস্তি প্রদান করা হলো।

গাধা খুশিতে লাফাতে লাফাতে বলতে লাগলো – ঘাসের রং নীল, ঘাসের রং নীল। এটা বলে বলে রাজ দরবার ত্যাগ করলো।

এদিকে বাঘ শাস্তি মেনে নিলো কিন্তু সিংহকে জিজ্ঞাসা করলো —’মহারাজ, আপনি আমায় শাস্তি দিলেন কেন? যখন ঘাসের রং সত্যিই সবুজ।’

সিংহ বললো — ঘাসের রং সবুজ এটা ঠিক। তবে তোমাকে শাস্তি দেওয়ার সাথে ঘাসের রং সবুজ না কি নীল, এই প্রশ্নের কোনো সম্পর্ক নেই।

তোমাকে শাস্তি দেওয়ার কারণ হলো তুমি একটি বুদ্ধিমান ও সাহসী  প্রাণী হয়েও একটা গাধার সাথে তর্ক করে সময় নষ্ট করেছো। 

আবার এরকম একটা অহেতুক কারণে আমার কাছে এসে আমার সময় নষ্ট করেছো। এই কারণে তোমাকে শাস্তি দিয়েছি। 

শিক্ষা – বুদ্ধিমানরা কখনোই কারো সাথে তর্কে জড়ায় না। কেননা তর্ক কখনই ভালো ফল বয়ে আনে না। তর্ক কেবল নির্বোধ ও মুর্খদের মানায়।

আরোও পড়ুন –

শিক্ষনীয় হাসির গল্প – তিন ধাপ্পাবাজের কাণ্ড

শিক্ষনীয় মজার গল্প – একদা একজন অন্ধ লোক একজন ভিক্ষুক ও একজন লেংড়া লোক নৌকা দিয়ে নদী পাড়ি দিচ্ছিলো। 

হঠাৎ অন্ধ লোকটি বলে ওঠে – দেখো দেখো আকাশে আজ কি সুন্দর চাঁদ উঠেছে!

অন্ধের এই কথা শুনে লেংড়া লোকটি বলে ওঠে – মন চাচ্ছে তোকে লাথি মেরে নদীতে ফেলে দেই। অন্ধ আবার না কি আকাশে চাঁদ দেখে ফেলছে!

তাদের কথা শুনে ভিক্ষুক লোকটি বলে ওঠে – আমার মন বলছে তোদের দুজনকেই পানিতে ফেলে মেরে ফেলি। এরপর যতো টাকা পায়সা খরচ করতে হয় করা যাবে। 

শিক্ষা – সমাজে এমন লোকের অভাব নেই যারা ধাপ্পাবাজি করতে একটুও নিজের অবস্থানের দিকে তাকায় না। 

তারা নিজের মন যা চায় সেটিই বলতে থাকে অথচ  ধাপ্পাবাজির কারণে সমাজে তার মূল্য কমতে থাকে কিন্তু সে মনে মনে নিজেকে অনেক বড় ভাবতে লাগে। 

About
Shah suhail

Use a dynamic headline element to output the post author description. You can also use a dynamic image element to output the author's avatar on the right.

Leave a Comment